আইনের শাসন সুদৃঢ় করতে পারলেই নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে- মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, আজ থেকে ৪৭ বছর আগে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে মহান স্বাধীণতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বরেণ্য রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষার অঙ্গিকার নিয়ে ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। শহীদ জিয়ার গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা ছিলা সুগভীর। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, ‘দেশ ও জাতির চরম সংকটকালে দুঃশাসনের বাতাবরণের মধ্যে অসীম সাহসিকতার সাথে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও দুর্বার আন্দোলনে যিনি নেতত্ব দিয়েছেন আমি সেই অদম্য সাহসের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা। বিএনপি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত যে সকল নেতাকর্মীরা আত্মদান করেছেন তাদের প্রতি জানাই আমার অকৃত্রিক শ্রদ্ধা, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। এই শুভদিনে আমি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের জনগণকে জানাচ্ছি অকৃত্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র দলের কেন্দ্রীয় আদর্শ। বিএনপি’র ১৯ দফা দলের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি জনগণ সার্বিকভাবে গ্রহণ করে। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মতে ‘ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ভৌগলিক ভুখন্ডের ওপর ভিত্তি করে ‘বাংলাদেশী পরিচয়’ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে আলাদা ও নিজের কাছে অনন্য।’ তাই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অঙ্গিকার বাস্তবায়নে বিএনপি’র সকল নেতাকর্মী নিরলস ও একনিষ্ঠ আপোষহীন লক্ষ্যে স্থির।’
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি’র ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মহান দিনে আমি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলকে আরো সুসংহত ও গতিশীল করার জন্য মনেপ্রাণে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দীর্ঘ দেড় দশক পরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ছাত্র-জনতা নি:স্বার্থ আত্মদানের মধ্য দিয়ে গত বছর জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারি দানব আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছে। এখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গণতন্ত্রকামী দলগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। এতোদিন গুম-খুনের আতঙ্ক মানুষের নিত্য সঙ্গী ছিল। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন সুদৃঢ় করতে পারলেই নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। দুঃশাসনে যে কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিলো সেটি সমূলে উপড়ে ফেলে একটি পরমতসহিষ্ণু, শান্তিময় এবং মানবিক সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই জাতীয়তাবাদী শক্তির মুল লক্ষ্য হতে হবে।
তিনি বলেন, খুনখারাবী ও সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতিকে উচ্ছেদ করে রাষ্ট্র ও সমাজে গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য আমাদের আত্ম নিবেদন করতে হবে। গতবছর ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণআন্দোলনে স্বৈরাচারের পতনে যে সম্ভাবনার দিকগুলো দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়েছে তা ধাপে ধাপে সফল বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। গণসম্পৃক্ত দল বিএনপি জনগণের সুখ-দুঃখের সাথে সবসময় একাত্ম থাকে। বিএনপি যতবারই ক্ষমতাসীন হয়েছে ততবারই কৃষি, শিল্প বানিজ্যসহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভদিনে আমি বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য উদাত্ত আহবান জানাই।’
ভিওডি বাংলা/ এমপি