রাজবাড়ীতে সবজির বাজারে অস্থিরতা, বিপাকে সাধারণ মানুষ


রাজবাড়ীর সবজির বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে সবজি সবচেয়ে সহজলভ্য খাদ্য হলেও এখন তা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবী থেকে শুরু করে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের পাতে সবজি জোটানোই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাজবাড়ী শহরের প্রধান বাজার, সওদাগর পট্টি ও গোরপাড়ার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পটল, উস্তা, বেগুন, ডাঁটা ও কাকরোল কেজি প্রতি ৮০ টাকা, মুলা ও কালা বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ও কুমড়া কেজি প্রতি ৬০ টাকা, মুখেকচু ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ, প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। একটি মাঝারি আকারের লাউ ৬০ টাকা, ছোট আঁটি লালশাক ১০ টাকা। তবে আলু ও পেঁপে তুলনামূলকভাবে কিছুটা সাশ্রয়ী। আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি, আর পেঁপে ৩০ টাকা। কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ এ দুটি সবজি দিয়ে সংসারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।
চাকরিজীবী হিরা কুন্ডু বাজার করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বাজারে এলে শুধু সবজির দাম শুনেই আতঙ্ক লাগে। চাহিদামতো সবজি কিনতে পারি না। মাছ-মাংস কেনা তো দূরের কথা, শুধু সবজির দামই পুরো বেতন শেষ করে দেয়।”
অন্য ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “শুধু আলু আর পেঁপে দিয়ে সংসার চলে না। এর বাইরে যেকোনো সবজি কিনতে গেলেই কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকা। ছোট একটি আঁটি লালশাকও ১০ টাকা। এভাবে সংসার চালানো সত্যিই দুঃসহ হয়ে গেছে।”
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই দাম বাড়ছে। চাষিদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে।
রাজবাড়ী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, “আমরা যেমন দামে পাইকারি বাজার থেকে কিনি, তেমন দামে বিক্রি করি। অতিরিক্ত দাম নেওয়ার সুযোগ নেই। টানা বৃষ্টিতে অনেক ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। উৎপাদন কম থাকায় বাজারে চাপ পড়েছে।”
সবজির এই অস্থির বাজারে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা দিনে আনে দিনে খায়, তাদের জন্য ৭০-৮০ টাকা কেজির সবজি কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সংসারে প্রতিদিনের ভাতের সাথে একটুখানি সবজি জোটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভোক্তারা মনে করছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ