মধুপুরে পাগলা শিয়ালের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত

টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক পাগলা শিয়ালের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
সোমবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রানিয়াদ কারীর বাসস্ট্যান্ড, পৌর শহরের টেংরী, আদালত পাড়া, ও মালাউড়ী পর্যন্ত প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই হামলা চলতে থাকে। হঠাৎ ছুটে এসে শিয়ালটি পথচারী ও স্থানীয়দের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়াতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহতদের মধ্যে মান্নান, রাকিব, লতিফ, রেজাউল, মর্জিনা, শেফালি, মজিদ, কাওসারসহ ১৫জন মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকি আহতরাও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া কয়েকজন নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
রানিয়াদ এলাকার আব্দুল লতিফ বলেন, হঠাৎ পিছন দিক থেকে কিছু এসে আমার পায়ে কামড় দেয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দেখি শিয়ালটা আরেকজনের দিকে ছুটে যাচ্ছে। জীবনে এমন ঘটনা দেখিনি এখন পুরো এলাকাই আতঙ্কে আছে।
আদালত পাড়ার কাওসার আহমেদ বলেন, বিকেলে হাঁটতে বের হয়েছিলাম, হঠাৎ করেই শিয়ালটা আমার পেছন থেকে এসে পায়ে কামড় দেয়। পরবর্তীতে জানতে পারি এই শিয়ালটা আরো ২০ জনকে কামড়িয়ে। যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, আরও বড় বিপদ হতে পারে।”
আহত মহিলা মর্জিনা বেগম বলেন, বিকেলে বাড়ির আঙ্গিনায় কাজ করছিলাম, হঠাৎ দেখি শিয়ালটা দৌড়ে এসে কামড়ে দিল। এত ভয় পেয়েছি যে এখন বাচ্চাদেরও বাইরে যেতে দিচ্ছি না। তিনি আরও বলেন শুধু মানুষকে না কয়েকটি গোরু'কে কামড়িয়ে আহত করেছে।
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, আহত ১৫ জন হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন ও রেবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন দেওয়া হয়েছে। সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিয়ালটি সম্ভবত রেবিস ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ায় এ ধরনের আচরণ করেছে।
এদিকে হামলার পর স্থানীয়রা শিয়ালটিকে ধরার চেষ্টা করলেও সেটি গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







