ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাল ভরাট–কালভার্ট নির্মাণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোড় গ্রামে প্রাকৃতিক খাল ভরাট ও মাত্র এক মিটার প্রশস্ত ছোট আকৃতির কালভার্ট নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। বহু বছর ধরে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত এ বৃহৎ খাল—স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘গাং’ বলা হয়—তা সংকুচিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩নং চুন্টা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ হুমায়ুন মেম্বার স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে খালটি ভরাট করছেন এবং খালের ওপর মাত্র ১ মিটার বাই ১ মিটার আকারের ক্ষুদ্র কালভার্ট নির্মাণ করছেন। এত ছোট কালভার্ট দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে পানি প্রবাহ সম্ভব নয় বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে মাটি ফেলে খাল সমতল করার কাজও চলছে।
ঘাগড়াজোড় ও অরুয়াইল রোডঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ জানান, এ খালই বৃষ্টির পানি নদীতে নামার একমাত্র পথ। বর্ষা মৌসুমে এই জায়গায় পানি জমে থাকলে পুরো গ্রাম জলাবদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষক মোঃ আবুল মিয়া বলেন, “বর্ষায় পানি যেভাবে নামে, এত ছোট ড্রেন দিয়ে নামার কথা চিন্তাই করা যায় না। পানি দাঁড়িয়ে গেলে পুরো গ্রাম তলিয়ে যাবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শরিফ জানান, “একসময় এই খাল দিয়ে নৌকা চলত। এখন সেই খালটাই ভরাট করে দিচ্ছে। বর্ষায় হাঁটু-কোমর পানি হওয়া নিশ্চিত।”
ভুক্তভোগীরা জানান, বড় খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অন্তত ১০ মিটার প্রশস্ত কালভার্ট নির্মাণ জরুরি। একই সঙ্গে চলমান ভরাট কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান তারা।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ড সদস্য হুমায়ুন মেম্বার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে খালটিকে বিলুপ্ত করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন মেম্বার বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৬০ ফিট করার টাকা আছে, বাকিটা ৮০ ফিট করার টাকা গ্রামবাসী দিয়েছে।”
অন্যদিকে, চুন্টা ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ বলেন, “নির্মাণ কাজটি সরকারি খালের ওপর হচ্ছে। আমরা তাদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে জানিয়েছি, তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।”
প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রক্ষা ও পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







