পাকুন্দিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় মাহবুব জিয়া হত্যাকাণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাহবুব জিয়া (৪০) হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরকাওনা (মুনিয়ারিকান্দা) গ্রামের চরকাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা নামাজে আগে পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এসময় নিহতের ভাই ও মামলার বাদী নাছির উদ্দিন, স্ত্রী তানিয়া, বাদল মিয়াসহ স্বজন ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার ও থানার অভিযোগসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে বাড়ি নির্মাণের সময় তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সেই চাঁদা না দেওয়ায় গত ২৩ নভেম্বর বিকেল ৫টার দিকে ইলিয়াস মিয়া (৪৫), ফরহাদ মিয়া (৩৫), সামাদ (২৫), তানভির (২২), সুরমা আক্তারসহ সংঘবদ্ধ একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুনিয়ারিকান্দা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাহবুব জিয়া, রফিক ও সায়িমের ওপর হামলা চালায়।
স্বজনদের দাবি, চাপাতি, রামদা, লোহার রড, ইট ও লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মাহবুব জিয়া, রফিক ও সায়িম গুরুতর আহত হন। প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) মাহবুব জিয়া মারা যান। আহতদের একজন এখনো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
হামলায় বাধা দিতে গেলে হুমাইরা, তানিয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হন। পরিবারের অভিযোগ, হামলার পর সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।
নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে বুধবার পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন, যা পরে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং পরিবারের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানায়।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোবারক হোসেন বলেন, ঘটনার পর এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







