জামায়াতকে ক্ষমতায় আনলে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ইসলামি ব্যাংকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মাওলানা জহিরুল ইসলাম।
প্রথমে ইসলামী ব্যাংকসহ আরও অনেক ব্যাংক থেকে হাজারো চাকরিজীবীর চাকরি কেড়ে নেওয়া হলো রীতিমতো। নিয়ম–কানুনের ধার না ধরে এত মানুষের নিজেদের ও তাদের পরিবারের পেটে লাথি মেরে ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করা হলো। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারাই এই কাজটি করেছেন নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে।
অন্যদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবার চাকরি হারানোদের পক্ষে মিছিল–মিটিং করলেন।
মানে ভোট দেন, আমগো সিল মারেন, তারপর চাকরি ফেরত দিব, এইটা একটা ফাঁদ জাস্ট ভোট পাওয়ার জন্য ।
জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বকেয়া বেতান–ভাতাসহ চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অ্যাসিট্যান্ট সেক্রেটারি।
গত শুক্রবার বিকেলে বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নে এক মতবিনিময় সভায় মাওলানা জহিরুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন। বাঁশখালী উপজেলায় ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় হয়েছিল। শনিবার ওই মতবিনিময় সভায় জহিরুল ইসলামের দেওয়া ২ মিনিট ৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে মাওলানা জহিরুল ইসলামকে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমালোচনা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘কিছু ব্যাংকার ইসলামী ব্যাংককে কলঙ্কিত করার জন্য এ ষড়যন্ত্র করছে। আপনার ছেলে, আপনার ভাগনে, আপনার মেয়ে যদি হয়ে থাকত (চাকরিচ্যুত হতো) তাহলে কেমন লাগত। আপনার সে অনুভূতি থাকা উচিত ছিল। আপনি রিজিকে হাত দিয়েছেন, আপনার সন্তান একদিন চাকরিহারা হবেন ইনশা আল্লাহ।’
চাকরিচ্যুতদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘যিনি বা যাঁরা, গোপনে বা প্রকাশ্যে কারও রিজিকে আঘাত করার জন্য চাকরিচ্যুতি ঘটান; অথবা কারও ব্যক্তিগত সম্মানে আঘাতের জন্য, কারও সম্পদে আঘাত করার জন্য যদি চেষ্টা করেন; আল্লাহ তাঁদের বিচার করবেন।’
বাঁশখালী উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সাইফুল ইসলাম এ মতবিনিময় সভার সঞ্চালনা করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য শহিদুল মোস্তাফা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোছাইন সিকদার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল্লাহ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভার এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে মাওলানা জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে বার বার কল করা হলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







