১৭ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশার সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়ার আভাস

দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিছু কিছু এলাকা থেকে এই শৈত্যপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার পর আবার কিছুটা কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা পর্যন্ত সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে যেসব জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো-মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা। এসব এলাকার কিছু অংশ থেকে আগামী একদিনের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ কমতে পারে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বহু জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কিছু এলাকায় তা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। এ সময় রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের নদী অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (৪ জানুয়ারি) একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। নদী অববাহিকা এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এদিন তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আবার সামান্য কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তবে সারাদেশেই শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চালকদের সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নৌ ও বিমান চলাচলেও সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
শীতপ্রবাহ ও কুয়াশার প্রভাবে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। সংশ্লিষ্টদের শীতজনিত রোগ থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ভিওডি বাংলা/জা


