খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা অপূর্বর

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ উপস্থিত হন, যা পুরো এলাকা এক জনসমুদ্রের রূপ দেয়। ভোর থেকেই সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতা ও দেশের নানা স্তরের জনগণ মানিক মিয়া এভিনিউতে সমবেত হতে শুরু করেন।
অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করে লেখেন, “ক্ষমতার বাইরে গিয়েও যে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়-এই জনসমুদ্র তার প্রমাণ। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।”
জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে, খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে। এতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শোক ও সমবেদনা জানানো হয়। শোকস্ত পরিবারকে সমর্থন জানাতে ঢাকায় ছুটে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর বিশেষ দূত ও মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ।
জানাজার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, খালেদা জিয়া কেবল বিএনপিরই নয়, পুরো জাতি-রাষ্ট্রের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।
জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। সেখানে তিনি তাঁর স্বামী, জাতির জনক জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত হন। জানাজার সমাপনীতে সরকার ও তিন বাহিনীর প্রধানরা শ্রদ্ধা জানান, এবং তোপধ্বনির মাধ্যমে তাকে সম্মাননা জানানো হয়।
লাখো মানুষের অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক নেতাদের শ্রদ্ধা ও অপূর্বের প্রার্থনা-সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার বিদায় হয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী অধ্যায়।
ভিওডি বাংলা/জা






