বৈঠক গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন ভারতীয় কূটনীতিক : শফিকুর

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, চলতি বছর তার বাইপাস সার্জারির পর একজন ভারতীয় কূটনীতিক তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে ওই কূটনীতিক তাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন বৈঠকটির বিষয়টি প্রকাশ না করা হয়। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
ডা. শফিকুর রহমান তার বাসভবনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সাধারণত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা তার সঙ্গে খোলামেলা সাক্ষাৎ করেন এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। কিন্তু ভারতীয় ওই কর্মকর্তা ব্যতিক্রমীভাবে সাক্ষাৎটি গোপন রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা আমার সঙ্গে দেখা করলে তা প্রকাশিত হয়। তাহলে এখানে সমস্যাটা কোথায়? আমাদের সবার উন্মুক্ত হওয়া উচিত। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।”
রয়টার্স জানায়, দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ থাকার পর মূলধারার রাজনীতিতে ফিরছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং একটি ঐক্য সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
একাধিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ১৭ বছর পর নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া জামায়াত এই মুহূর্তে জনপ্রিয়তায় বিএনপির পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এতে দলটির মূলধারার রাজনীতিতে পুনরাগমনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকারে ছিল। এবারও দলটি বিএনপির সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উন্মুক্ত বলে জানিয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল সরকার চাই। দলগুলো যদি একত্র হয়, আমরা যৌথভাবে দেশ পরিচালনা করব।”
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান যেকোনো ঐক্য সরকারের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত। নির্বাচন শেষে সর্বাধিক আসনে জয়ী দল থেকেই প্রধানমন্ত্রী হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুন করে গতি পায়। একই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
২০১৩ সালে একটি আদালত রায় দিয়েছিল, জামায়াতের নিবন্ধন সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপর দলটির নির্বাচন করার অধিকার বাতিল করা হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতে অবস্থান করা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই। কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চাই না।”
ভারত সরকার জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে একটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। তবে বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জামায়াত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না, কারণ তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতি রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি বিষয়টি জটিল করতে চান না এবং মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের অবস্থান, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা




