সালাহউদ্দিনের বার্ষিক আয় ৬ কোটি টাকা, স্বর্ণ ১২ ভরি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩৭ টাকা।
গত ২৮ ডিসেম্বর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত আয়-ব্যয়ের বিবরণী (ফরম-২১) অনুযায়ী ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ব্যয় দেখিয়েছেন ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।
আয়ের উৎস হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন-কৃষিখাত থেকে ৬ লাখ টাকা, স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া বাবদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, নিজের মালিকানাধীন পেকুয়া লাইভস্টক ফিশারিজ ফার্ম থেকে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ব্যাংক আমানত থেকে ১১ হাজার ৩২৬ টাকা এবং বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানি বাবদ ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া জমি বিক্রি থেকে মূলধনী আয় হিসেবে তিনি পেয়েছেন ৫ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ৩১১ টাকা, যা তার মোট আয়ের বড় অংশ।
অস্থাবর সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, সালাহউদ্দিনের হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৬৭ টাকা এবং তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদের নগদ অর্থ রয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১২৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সালাহউদ্দিনের নামে জমা আছে ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৬ লাখ ৫ হাজার ৪৩৫ টাকা।
শেয়ার ও বিনিয়োগ খাতে সালাহউদ্দিনের তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের অর্জনকালীন মূল্য ১৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে স্ত্রীর নামে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অর্জনমূল্য ২ কোটি ৫৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে স্ত্রীর শেয়ারের বর্তমান মূল্য ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
যানবাহনের তালিকায় সালাহউদ্দিনের ব্যবহৃত একটি কার ও দু’টি জিপের মূল্য প্রায় ৫৭ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর রয়েছে প্রায় সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি কার ও একটি জিপ।
উপহার হিসেবে পাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ সালাহউদ্দিনের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৩ তোলা (প্রায় ১২ ভরি), যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। স্ত্রীর কাছে রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ তোলা স্বর্ণ, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ২৪ দশমিক ৩৬ একর কৃষিজমি, ৯ দশমিক ৪৩ একর অকৃষি জমি, পেকুয়ায় তিনতলা বাসভবন, কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ছয়তলা ভবন এবং ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট।
দায়-দেনার অংশে তিনি ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি অন্যদেরকে প্রদত্ত ঋণের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
ভিওডি বাংলা/জা




