আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, নিহত ১৭

তীব্র খরার পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলায় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল বলে জানিয়েছেন হেরাত গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদী। তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি ও ভেজা মাটির কারণে পুরোনো কাঁচা বাড়িগুলো ধসে পড়ছে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আফগানিস্তান জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ বলেন, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই বন্যায় প্রায় ১,৮০০ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, বহু ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে এবং বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু মারা গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরিপ দল পাঠানো হয়েছে এবং জরুরি সহায়তার প্রয়োজন নির্ধারণে কাজ চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হেরাত-কান্দাহার মহাসড়কের দাশত-ই বাকওয়া এলাকায় আকস্মিক বন্যার স্রোতে একটি ট্রাক উল্টে যায়। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল স্রোতে একটি বাস উল্টে যাওয়ার পর যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগানিস্তান ক্রমেই চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, দুর্বল অবকাঠামো, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এসব দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো কাঁচা মাটির ঘর রয়েছে, যা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় সহজেই ধসে পড়ে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে থাকা দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশটিতে জরুরি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে সাহায্য করতে জাতিসংঘ ও এর অংশীদাররা ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আহ্বান করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ভিওডি বাংলা/জা







