শায়খুল হাদিস আল্লামা ফজলুল করীম আর নেই

শায়খুল হাদিস আল্লামা ফজলুল করীম আর নেই। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলাধীন আশরাফপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল বার্ধক্যজনিত এবং তিনি ৫ পুত্র ও ২ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, ভক্ত ও হাজারো ছাত্র রেখে গেছেন।
মরহুম আল্লামা ফজলুল করীম কুমিল্লা জেলার ঐতিহ্যবাহী দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শায়খুল হাদিস ছিলেন। তাঁর বড় ছেলে মাওলানা আবু নছর আশরাফী হাজীগঞ্জ আহমদীয়া কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস এবং একজন প্রখ্যাত আলিম ও মুফাসসিরে কুরআন।
শিক্ষকতা জীবনের সূচনা হয় ১৯৬৩ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ হিসেবে। অল্প সময়েই তিনি দক্ষতা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে সিলেটের সৎপুর কামিল মাদরাসায় হেড মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেখানে সাড়ে নয় বছর হাদিস শাস্ত্র পাঠদান করেন।
১৯৭৬ সালে তিনি ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় হেড মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন এবং টানা সাড়ে ২৭ বছর শিক্ষকতা করেন। তাঁর সময়েই ধামতী মাদরাসা সারা দেশে সুনাম অর্জন করে এবং কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় নিয়মিতভাবে শীর্ষস্থান লাভ করতে থাকে। দেশব্যাপী মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় ধামতী মাদরাসা।
২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৪১ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য যোগ্য আলিম তৈরি করেন, যারা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
আকিদা ও ঈমানের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। শিরক, বিদয়াত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। লেখালেখির মাধ্যমেও তিনি সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখেন। তাঁর রচিত তিন খণ্ডের গ্রন্থ ‘বিদয়াত পরিচিতি ও বিদয়াতের পরিণতি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মরহুমের নামাজে জানাজা আজ শুক্রবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটে আশরাফপুর গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। দেশবাসী এই বরেণ্য আলিমের রূহের মাগফিরাত কামনা করছে।
ভিওডি বাংলা/জা




