হলফনামায় এনসিপি নেতাদের আয় নিয়ে কৌতূহল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের সম্পদ ও নগদ অর্থের পরিমাণ নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলের আলোচিত প্রার্থী আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ প্রার্থীর হলফনামা জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে সম্পদ ও নগদ অর্থের পরিমাণে সব চেয়ে এগিয়ে আছেন হান্নান মাসউদ।
নাহিদ ইসলাম:
ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম ২৭ বছর বয়সী এবং নিজেকে ‘পরামর্শক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই, তবে অস্থাবর সম্পদ ৩২ লাখ টাকার বেশি। তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। ৩ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ থাকলেও নাহিদ ও তার স্ত্রীর মিলিত অলংকারের মূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
আখতার হোসেন:
রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেনের নিজের ও স্ত্রীর মিলিত অস্থাবর সম্পদ ৪৩ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৮ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে। নগদ অর্থের পরিমাণ ১৩ লাখ টাকা।
হান্নান মাসউদ:
নোয়াখালী-৬ আসনের মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসুদের সম্পদ নিয়ে বেশি কৌতূহল। তার নগদ অর্থ ৩৫ লাখ টাকা, যা তার বাবার সম্পদের ১৮ গুণ। ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হান্নানের বাৎসরিক আয় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
হাসনাত আবদুল্লাহ:
কুমিল্লা-৪ আসনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর মোট সম্পদ ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে রয়েছে ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণ এবং ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার নগদ। তবে নিজের নামে কোনো বাড়ি বা গাড়ির তথ্য নেই।
সারজিস আলম:
পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের মোট সম্পদ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে ১৬ শতাংশ কৃষি জমির দাম কয়েক বছরের ব্যবধানে ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ লাখ টাকায় উঠেছে।
মো. রাশেল উল আলম:
সিলেটের তিনটি আসনের প্রার্থীরা বেশির ভাগ উচ্চশিক্ষিত ও প্রবাসী। সিলেট-৪ আসনের আইটি ডেভেলপার রাশেল উল আলম সর্বাধিক সম্পদশালী। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। দেশে তার বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ এবং বিদেশে ৬২ লাখ টাকা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী:
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ও স্ত্রীর স্বর্ণের পরিমাণ ২২ লাখ এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা।
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া তাসনিম জারা ১৯ লাখ টাকার সম্পদ প্রদর্শন করেছেন।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক দলের এই তরুণ নেতাদের হলফনামা তাদের জীবনযাত্রার উন্নতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে যদি হলফনামায় ভুল বা অসত্য তথ্য প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা






