বছরের শুরুতেই রাশিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ড্রোন হামলা

বছরের প্রথম দিনেই রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেন থেকে পাঠানো অন্তত ২৬টি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন মস্কোমুখী অবস্থায় ভূপাতিত করা হয়েছে। এই হামলার ফলে সাময়িকভাবে মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।
রুশ বার্তা সংস্থা আরটির বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুক্রবার দিবাগতরাত ১টার মধ্যে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে দেওয়া একাধিক বার্তায় জানান, ড্রোন হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও নেই। ড্রোন ভেঙে পড়ার স্থানগুলোতে জরুরি সেবাদানকারী দল কাজ করছে বলে তিনি জানান।
নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার অংশ হিসেবে ওই সময় মস্কোর দোমোদেদোভো, শেরেমেতিয়েভো, ভনুকোভো ও ঝুকভস্কি বিমানবন্দরে কয়েক দফা ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। এতে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে বিঘ্ন ঘটে।
এদিকে নববর্ষ উদযাপনের মধ্যেই দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী খোরলি গ্রামে একটি ক্যাফে ও হোটেলে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং অন্তত ২৭ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাশিয়া দাবি করেছে, সর্বোচ্চ প্রাণহানির উদ্দেশ্যেই নববর্ষের রাতে ওই হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। মস্কো এটিকে একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। রুশ কর্মকর্তারা এই ঘটনার তুলনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর নৃশংসতার সঙ্গে করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলেছেন।
মস্কোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে নিয়মিত ড্রোন হামলা চালাচ্ছে এবং এসব হামলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আবাসিক ভবন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনের সামরিক সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র ও অস্ত্র সংরক্ষণাগারে হামলা জোরদার করেছে বলে দাবি করেছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন বছরের শুরুতেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে আরও অনিশ্চিত ও ভয়াবহ করে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তারা আশঙ্কা করছেন, চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু দুই দেশ নয়, পুরো ইউরোপীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







