• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

কাউন্সিল নাকি রেজ্যুলেশন

বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক    ২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪৪ পি.এম.
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। ছবি-সংগৃহীত

নতুন বছর, সামনে জাতীয় নির্বাচন। সব মিলিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে এবার পূর্ণাঙ্গরূপে অধিষ্ঠিত হতে তারেক রহমানকে পরামর্শ দিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণীয় ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠদের তথ্য, তিনি এখনও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেই কাজ করতে আগ্রহী। পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তিনি সরাসরি তৃণমূলের মতামতের পর গ্রহণ করতে চান বলে একটি সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামতের পর তারেক রহমান তা এখনই কার্যকর না করার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করার জন্য মত দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘‘আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারবো না।’’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির নেতারা তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান করে রেজ্যুলেশন করার পক্ষে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তা বারণ করেছেন। তিনি তার মায়ের শোকের বিষয়ে সতর্ক।

যদিও স্থায়ী কমিটির ভাষ্য ‘‘তারেক রহমান চেয়ারম্যান, এটা স্থায়ী কমিটিতে অটো হয়ে যাবে। এর জন্য আবার কাউন্সিলের প্রয়োজন কেন হবে? গঠনতন্ত্রে কোনও বাধা নেই। এটা জরুরিভাবে সে কারণে আমাদের মতামত আমরা কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাস করবো।’’

প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা রাখেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে মৃত্যু অবধি তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকের শুরু থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। ওই আন্দোলনেই মায়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন তারেক রহমান।

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্র জানায়, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে দলের গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বগুড়ায় সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন।

২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে তারেক রহমানকে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে নির্বাসিত হন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন। এর আগে তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে, যখন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হন, তখন তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, গঠনতন্ত্রে কোনও বিধিনিষেধ না থাকায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করতে মত দিয়েছেন। যদিও তিনি নিজে এখনই এই প্রস্তাবে কোনও সায় দেননি।

গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ উপধারার ২ নম্বরে এ বলা আছে, ‘‘চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন।’’

‘গ’ উপধারার নম্বর ৩-এ বলা হয়েছে, ‘‘যেকোনও কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’’

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার আসনগুলোতে রাখা হচ্ছে বিকল্প প্রার্থী
জাতীয় সংসদ নির্বাচন খালেদা জিয়ার আসনগুলোতে রাখা হচ্ছে বিকল্প প্রার্থী
গণনেতার ফেরা
গণনেতার ফেরা
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমান
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমান