সাধারণ ভোটার উদাসীন
রাজশাহীতে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন শেষে জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেলেও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভোট নিয়ে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসন থেকে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াতের নায়েবে আমির মজিবুর রহমান। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে শরিফ উদ্দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তিনি বলেন, “নির্বাচনী মাঠে আগের অস্থিতিশীলতা কেটে গেছে। এখন একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমি আশাবাদী।”
তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সেই উত্তাপ নেই। রাজাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মনুসর রহমান বলেন, “ভোটের কোনো কানা-ঘুষাও পাচ্ছি না। মানুষের আগ্রহ খুব কম।”
রাজশাহী-২ (সদর) আসনেও ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মনোনীত ও সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু এবং জামায়াতের প্রার্থী মহানগর জামায়াত নেতা ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। আজ সোমবার মিজানুর রহমান মিনু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
রাজশাহী-৩ (পবা–মোহনপুর) আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে বিএনপির শফিকুল হক মিলন এবং জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ আলোচনায় রয়েছেন। আজ সোমবার শফিকুল হক মিলন মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। পবার পারিলা এলাকার বাসিন্দা আসলাম উদ্দিন বলেন, “প্রার্থী দুজনের নামই শোনা যাচ্ছে, কিন্তু আদৌ ভোট হবে কি না—তা নিয়েই মানুষের বেশি আলোচনা।”
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। এখানে বিএনপির ডিএম জিয়াউর রহমান ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে হামিরকুৎসা এলাকার বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখনো ভোট নিয়ে তেমন আগ্রহ তৈরি হয়নি।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে সর্বাধিক ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। আগে ঘোষিত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুজ্জামান লিটনের পরিবর্তে শেষ মুহূর্তে পুঠিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মনজুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে শুরু থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলন থাকলেও শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলের ওপরই আস্থা রেখেছে দলটি।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট–বাঘা) আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। এখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ এবং জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক আলোচনায় রয়েছেন। তবে চারঘাটের নন্দনগাছী এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, “ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের তেমন আগ্রহ নেই। দলীয় নেতাকর্মীরাই শুধু আলোচনা করছেন।”
ভিওডি বাংলা/ মোঃ রমজান আলী/ আ







