• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ট্রাম্পের হুমকিতে পাল্টা সতর্কতা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩০ এ.এম.
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একজন সিনিয়র উপদেষ্টা বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘সাবধান’ থাকতে হবে। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এর আগে ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ঘিরে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ওয়াশিংটন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা লকডাউনে আছি এবং যেতে প্রস্তুত।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে বা সহিংসভাবে হত্যা করে—যা তাদের পরিচিত কৌশল—তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।’ তবে ওয়াশিংটন কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।

এর আগে জুন মাসে ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে গেছে। তবে ইরান সেই দাবি অস্বীকার করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান কাতারে অবস্থিত একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এদিকে তেহরানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তরুণী বিবিসির নিউজআওয়ার অনুষ্ঠানে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। তার ভাষায়, “ট্রাম্প বা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কিছু বললে নিরাপত্তা বাহিনী কেঁপে ওঠে।” নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, বহু বছর ধরেই বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করে আসছে।

আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লর্ডেগান শহরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের নাম আহমেদ জলিল ও সাজ্জাদ ভালমানেশ। এছাড়া আজনায় তিনজন এবং কৌহদাশতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তারা বিক্ষোভকারী না নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—তা স্পষ্ট নয়। মধ্য ইরানের ফুলাদশহর ও দক্ষিণের মারভদাশতেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভ চলাকালে গাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। বিবিসি পার্সিয়ান লর্ডেগান, তেহরান ও মারভদাশতের বিক্ষোভের ভিডিও যাচাই করেছে।

রবিবার তেহরানে দোকানদারদের বিক্ষোভ দিয়ে শুরু হয় এই আন্দোলন। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র দরপতনে ক্ষোভ থেকেই এ বিক্ষোভের সূত্রপাত। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন এবং বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শহরে। অনেক বিক্ষোভকারী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করছেন; কেউ কেউ রাজতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার আহ্বানও জানাচ্ছেন।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘বৈধ দাবি’ শুনবেন। তবে প্রসিকিউটর-জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

ভিওডি বাংলা/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সমাধিসৌধ পরিদর্শনে কিম জং উনের কন্যা
সমাধিসৌধ পরিদর্শনে কিম জং উনের কন্যা
আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, নিহত ১৭
আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, নিহত ১৭
খালেদা জিয়ার শোক বইতে রাজনাথ সিংয়ের বার্তা
খালেদা জিয়ার শোক বইতে রাজনাথ সিংয়ের বার্তা