• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মাদুরোর ‘ঘরেই’ ঘাপটি মেরে বসেছিল গাদ্দার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৮ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। দেশটির রাজধানী কারাকাসে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তার মধ্যেই মাদুরোর এই অভিযানের বিস্ময়কর সাফল্য মূলত একজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মীর কারণে সম্ভব হয়েছে। তিনি গোপনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA-কে মাদুরোর দৈনন্দিন চলাফেরা, সময়সূচি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছিলেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযান মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, CIA এবং FBI যৌথভাবে পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছে। অভিযানটি বহু মাস ধরে পরিকল্পিত এবং বিভিন্ন মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। বিশেষ করে ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের হুবহু একটি নকল কাঠামো তৈরি করে সেখানে প্রবেশের কৌশল অনুশীলন করে।

CIA-র একটি ছোট দল আগস্ট থেকে ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ছিল। তারা মাদুরোর ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিনিয়ত তার অবস্থান নিশ্চিত করতেন। এই প্রস্তুতির ফলে মার্কিন বাহিনী জানত, কখন, কোথায় এবং কীভাবে মাদুরোকে গ্রেফতার করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: যেভাবে মাদুরোকে ধরল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার দিন আগে অভিযানের অনুমোদন দেন। তবে সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযানের রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো কারাকাস এবং আশেপাশের এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ২০টি ঘাঁটি থেকে ১৫০টির বেশি আকাশযান অংশ নেয়, যার মধ্যে ছিল এফ-৩৫, এফ-২২ এবং বি-১ বোমারু বিমান।

এই হামলার আড়ালে ভারী অস্ত্রসহ মার্কিন স্পেশাল ফোর্স কারাকাসে প্রবেশ করে। রাত ১টার দিকে মাদুরোর আবাসিক কমপাউন্ডে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেনারা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।

‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ভবনে ঢুকেই মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরো একটি সেফ রুমে ঢোকার চেষ্টা করলেও দরজা বন্ধ করতে পারেননি। অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কোনো প্রাণহানি হয়নি।

ভোর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রের ওপর পৌঁছালে মাদুরো ও তার স্ত্রী সুরক্ষিতভাবে বহন করা হয়। সাত ঘণ্টা পর ট্রাম্প একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে ধূসর ট্রাউজার পরা এবং চোখ বাঁধা অবস্থায় মাদুরোকে দেখা যায়। ছবিতে লেখা ছিল, “ইউএসএস আইও জিমা জাহাজে নিকোলাস মাদুরো।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানটি ‘টেলিভিশন শো’ দেখার মতো ‘চমকপ্রদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে এবং দেশের বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাদুরোকে আটক করার এই অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অনেক বিশ্লেষক অবিলম্বে রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনাকে নজরদারি করছে, কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও তেলের বাজারে এর প্রভাব অনেক বড়।

মার্কিন সেনাদের প্রস্তুতি, CIA-র তথ্য এবং মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিশ্বাসঘাতকতার সংমিশ্রণে এই অভিযান সফল হয়। এটি প্রমাণ করছে যে আধুনিক সামরিক ও গোয়েন্দা কৌশল কেবল শক্তি নয়, তথ্য ও পরিকল্পনার উপরও নির্ভরশীল।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মাদুরো আটক হওয়ার পরও কমলো বিশ্ববাজারে তেলের দাম
মাদুরো আটক হওয়ার পরও কমলো বিশ্ববাজারে তেলের দাম
মাদুরোর মুক্তি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সতর্কবার্তা
মাদুরোর মুক্তি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সতর্কবার্তা
যেভাবে মাদুরোকে ধরল যুক্তরাষ্ট্র
যেভাবে মাদুরোকে ধরল যুক্তরাষ্ট্র