মাদুরোর মুক্তি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে চীন। বেইজিং তাদের আটককে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় একটি বড় আকারের সামরিক অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মাদুরোকে আটক করে। অভিযানের পরে প্রায় ২,১০০ মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয় মাদুরোকে।
আরও পড়ুন: মাদুরোর ‘ঘরেই’ ঘাপটি মেরে বসেছিল গাদ্দার
চীন শনিবারই এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে। দেশটি জানিয়েছে, একটি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে তারা ‘গভীরভাবে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ’।
রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি আহ্বান জানায়। মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তারা উল্লেখ করেছে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা এবং জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মাদুরো ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হবে। চীন অনুরোধ করেছে, ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাতের যে কোনো প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যা সংলাপ ও আলোচনা মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
চীনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি সতর্ক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দেশটি মনে করিয়ে দিয়েছে, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক ও দক্ষিণ আমেরিকার ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশও উত্তেজনা প্রকাশ করেছে। তবে চীনের সরাসরি পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সমালোচনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা






