মাদুরো আটক হওয়ার পরও কমলো বিশ্ববাজারে তেলের দাম

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য কমেছে।
অয়েল প্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমেছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ ডলার ৩২ সেন্টে। অন্যান্য তেলের দামও নিম্নমুখী ছিল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগের মতো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় এখন আর তেলের বাজার বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় না। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা আগেভাগেই সরবরাহ ও চাহিদার তথ্য পেয়ে যান। ফলে বড় সামরিক অভিযানের প্রভাব বাজারে থাকে খুব অল্প সময়ের জন্য।
ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে যদি জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবেই তেলের দাম হঠাৎ ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। কারণ বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়েই যায়।
যদিও কাগজে-কলমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত ভেনেজুয়েলার, বাস্তবে বৈশ্বিক বাজারে দেশটির প্রভাব খুবই সীমিত। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির তেল উৎপাদন কমেছে। বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন সামান্য এক মিলিয়নের বেশি, যার বড় অংশ দেশেই ব্যবহৃত হয়। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে ভেনেজুয়েলার অংশ ১ শতাংশেরও কম।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালেও ২০২৩ সাল থেকে তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। এর অন্যতম কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, যার ফলে তেলের চাহিদাও হ্রাস পেয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা






