ব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগারে মাদুরো

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর তাদের নেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি)। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কুখ্যাত ফেডারেল আটককেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
১৯৯০-এর দশকে নির্মিত এই কারাগারটি মূলত বিচারাধীন আসামিদের রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে বছরের পর বছর ধরে নোংরা পরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এমডিসির সুনাম ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবীরা একাধিকবার এখানকার পরিস্থিতিকে “অমানবিক” বলে অভিহিত করেছেন।
এই কারাগারে একসময় বন্দি ছিলেন গায়ক আর. কেলি, ফার্মাসিউটিক্যাল উদ্যোক্তা মার্টিন শ্রেকলি, সমাজকর্মী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল, ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোক্তা স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড এবং সংগীত তারকা শন ‘ডিডি’ কম্বস। এমনকি সন্দেহভাজন সিনালোয়া কার্টেল নেতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা গার্সিয়াকেও এখানে আটক রাখা হয়েছিল।
২০২৪ সালের শেষের দিকে শন কম্বসের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, এমডিসির পরিবেশ এতটাই কঠোর যে সেখানে থেকে একজন বন্দির পক্ষে সুষ্ঠুভাবে নিজের মামলার প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
সহিংসতা এই কারাগারের আরেকটি বড় সমস্যা। ২০২৪ সালের জুনে এক বন্দি ছুরিকাঘাতে নিহত হন। পরের মাসেই আরেক বন্দি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রাণ হারান। এসব ঘটনায় বন্দিদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
২০১৯ সালে একটি ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এক সপ্তাহ ধরে কারাগারটি সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল। সে সময় বন্দিরা প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, পানি সংকট ও নষ্ট টয়লেটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর তদন্ত শুরু হলে কারা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১,৬০০ বন্দিকে ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়।
ম্যানহাটনের কারাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে এমডিসিই নিউইয়র্ক সিটির একমাত্র ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলায় “নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক রূপান্তর” নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির শাসনব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। পাশাপাশি তিনি ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা






