ভোটারদের এনআইডি তথ্য সংগ্রহ
মনোনয়ন বাতিল ঘটনাসমূহে বিএনপির উদ্বেগ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহ এবং নানান কারণে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়াকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
রোববার (৪ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কোন একটি দলের পক্ষ থেকে ভোটারদের এনআইডি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে পুরুষ ও নারী কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছেন সত্য হলে এটা উদ্বেগ এর বিষয়। তাঁর ভাষায়, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট। এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে, তা পরিষ্কার নয়। এতে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনারা যদি নিশ্চিত তথ্য পান, তাহলে এটি অবশ্যই সংবাদ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্ব এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হচ্ছে। আমাদের দলেরও কয়েকজন আছেন। তবে তিনি যোগ করেন, ‘যদি আইনগত ও ন্যায্য কারণে বাতিল হয়, সেখানে অভিযোগের সুযোগ নেই। কিন্তু অন্যায়ভাবে বাতিল হলে আপিল করার সুযোগ আছে এবং সেই সুযোগ ব্যবহার করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ নিয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান নেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কিছু লিখলেই সেটাকে সত্য ধরে কোনো রাজনৈতিক দলকে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়। যাচাই করা জরুরি যা বলা হচ্ছে, তা আদৌ ঘটেছে কি না।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি কোনো সরকারি দপ্তরকে মনোনয়ন বাতিল বা অন্য কোনো বিষয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে না। ‘সরকারি কর্মকর্তারা আমাদের দলের কর্মী নন। সুতরাং এ ধরনের অভিযোগের আগে তদন্ত প্রয়োজন বলেন তিনি।
নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যেসব রাজনৈতিক দলের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। তবে কোনো দল স্বেচ্ছায় নির্বাচন না করলে, সেটিকে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক না হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিএনপি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যদি অনিয়ম, ভয়ভীতি বা তথ্যের অপব্যবহার হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ, এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদি আমিনসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







