সমালোচনা অবশ্যই থাকবে
৭১ বাদ দিলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না: তারেক রহমান

অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে নতুন পরিস্থিতি ও সুযোগ তৈরি হয়েছে তাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দলের সবাইকে মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধই আমাদের ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির জানান, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা নেতারা খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। একইসঙ্গে চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময়ও নিয়ে এসেছেন।
জানা গেছে, বাম জোটের নেতারা বেলা ১১টায় গুলশানে চেয়ারপারসন অফিসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এসময় বাম গণতান্ত্রিক জোট শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, নাজমুল হক প্রধান, ডা. মুশতাক হোসেন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, ইকবাল কবীর জাহিদ, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, মাসুদ রানা, মোশরেফা মিশু ও আব্দুল আলী।
গত ২৯ নভেম্বর এয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাসদকে নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ৯টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘প্রধানত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার সন্তান হিসাবে এবং পরিবার বর্গকে সমবেদনা জানাইতে আমরা গেয়েছি। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন আসার পরে মাতৃবিয়োগ… শোকাহত পরিবার ও দল সেটাকে আমরা সহমর্মিতা সমবেদনা এগুলো জানাতে গেয়েছি। এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে। এখানে এই যে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের যে আস্ফালন … এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
‘একাত্তর আমাদের ভিত্তি’
বজলুর রশীদ বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) একটা জিনিসকে বলছেন যে, আমি তো ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পরেই আমি বক্তব্যে যেটা বলছি যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশে এর অস্তিত্ব থাকে না, কাজেই সেটা ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা সেগুলোকে ধরেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে। উনি যেটা বলছেন উনার কথা যে, আমরা একটা এখানে বিশ্বাসী থাকবে, অবিশ্বাসী থাকবে, সংশয়বাদী থাকবে…. সবাইকে নিয়েই আমাদেরকে এখানে চলতে হবে। আমরা একটা উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক যে রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা আমাদের আছে। আমরা সেইভাবেই কাজ করতে চাই এবং অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই এবং জনগণ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের যাতে সুবিধা হয়, সুযোগ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে সেটা শুধু পরিকল্পনা না সেটা ইমপ্লিমেন্টেশনের দিকেও আমরা যেতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘উনি বলেছেন, আমাদের বিরোধী দল থাকবে অপোজিশন থাকবে। আপনাদের সাথে হয়তো অনেক বিষয় আমাদের মতপার্থক্য আছে, থাকবে কিন্তু আবার বিভিন্ন দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে সেগুলো আমরা নিশ্চয়ই বিনিময় করব। মাঝে মাঝে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাদেরকে দিবেন… আমরা যেটা গ্রহণ করা সেটা আমরা গ্রহণ করব। এরকম বললেন যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠুক। আমরা বলছি যে একটা পলিটিক্যাল কালচার এখানে গড়ে তোলা দরকার যে, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা, ফিলোসফিকাল টলারেন্স যেটা গণতন্ত্রের একটা পূর্ব শর্ত এবং সেখানে একটা নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেগুলোর কথা আমরা বললাম।’
বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমরা বলছি যে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি স্বাধীনতা বিরোধী তারা যাতে বাংলাদেশের মধ্যে রাজনীতিতে সেই ভাবে ইয়ে না করতে পারে এবং আমরা যেটা বলছিলাম যে জামায়াতে ইসলামী তারা এসে বললো যে জাতীয় সরকারের থাকবে...। উনি(তারেক রহমান) এটা বললেন যে, আমাদের এর সাথে এই বিষয়ে কোন কথা হয় নাই। বাইরে তারা এটা বলছেন। আমাদের সাথে এখানে এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলে নাই। শুধু বলছে যে দেশের প্রশ্নে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে সেটুকু কথা হয়েছে। আমরা বলছি সেখানে অবশ্যই যে মত পথের ভিন্নতা থাকলেও দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এগুলোর প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে ভিন্ন পথ থাকবে। কিন্তু এই প্রশ্নে এক থাকা দরকার। আমাদেরকেও সেটা উনি বলছেন যে মতভিন্নতা থাকবে সমালোচনা থাকবে।’
‘সমালোচনা অবশ্যই থাকবে’
বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমরা(গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট) বলছি যে, আমরা আজকে আপনাদের সাথে কথা বলতেছি এটা শোকের পরিবেশ কিন্তু সরকারে যদি আপনারা যান আমরাই হয়ত দেখবেন যে বেশি সমালোচনা করব আপনাদের। উনি বলেছেন যে হ্যাঁ অবশ্যই সমালোচনা তো থাকবেই । সমালোচনা না করলে তাহলে আর গণতন্ত্র হল কেমনে? সমালোচনাও থাকবে আবার আলোচনাও হবে। ভবিষ্যতে আরো কথা হবে দেখা হবে, আলোচনা হবে এটা যাতে অব্যাহত থাকে সবার সাথেই এই আলোচনাটা যাতে অব্যাহত থাকে মতবিনিময় যাতে অব্যাহত থাকে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
ভিওডি বাংলা/ এমএম







