ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
কী ভাবছে বিএনপি-জামায়াত

যুগপৎ আন্দোলনে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াত ও বিএনপি। সংসদ নির্বাচনের পর দুই দলেরই কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা। রাজনীতির নতুন প্রেক্ষাপটে সহনশীল অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দুই দলেরই। এরই মধ্যে সবাই মিলে দেশ গঠনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে জামায়াত। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সবার সহযোগিতায় গড়তে চান নতুন বাংলাদেশ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘিরে শোকাবহ পরিবেশের মাঝেই রাজনৈতিক অঙ্গণে নতুন বার্তা। বেগম জিয়ার দেশের প্রতি ত্যাগ ভালোবাসা আগামীর রাজনীতির জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। আগামী রাজনীতি, নির্বাচন পরবর্তী রাষ্ট্রগঠন এবং জাতীয় ঐক্যে নমনীয় অবস্থানে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘মত পার্থক্যটাকে যেন মতবিরোধের পর্যায়ে না নিয়ে যাই। বেগম খালেদা জিয়ার যে রাজনৈতিক যে সৌন্দর্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেটা যাতে অব্যাহত থাকে। এটি যেন নির্বাচনের আগেও থাকে এবং নির্বাচনের পরেও যারাই সরকার গঠন করেন না কেন, যে যে অবস্থানেই থাকেন না কেন; আমরা যেন এই রাজনীতিটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভাষ্য, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, কিন্তু বাংলাদেশ ও জুলাই বিপ্লবের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলের মধ্যকার যোগাযোগ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মত এনসিপি।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘রাজনৈতিক ভিন্নমত কিংবা বিরোধিতা শর্তেও সহাবস্থানের একটি রাজনীতি এখনও দেখা যাচ্ছে। এটা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি তাহলে এটা আমাদের অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নেবে।’
অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর পথচলা সামনের দিনগুলোতে কী ভূমিকা রাখবে সেদিকেই তাকিয়ে আগামীর বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থে দলগুলোর সমঝোতার বিকল্প নেই বলে মনে করেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করবে, সমালোচনা করবে; এগুলোর ওপরে যেটি থাকবে সেটি হলো দেশের জন্য কাজ করা, দেশের স্বার্থে কাজ করা, সামগ্রিকভাবে জনসাধারণের স্বার্থে কাজ করা।’
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশ গঠনে ঐক্যের প্রত্যাশা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। তবে সেটি কতটা বাস্তব রূপ পাবে, তা নির্ভর করছে আগামী নির্বাচন ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।
ভিওডি বাংলা/ এমএম/এমএইচ





