তীব্র শীতে কাঁপছে সারা দেশ, জানুয়ারিতে ৫ শৈত্যপ্রবাহ

দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। পৌষ-মাঘের মধ্যভাগে এসে হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফলে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ভোর ৬টার দিকে পরিমাপ করা হয়। একদিনের ব্যবধানে সেখানে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ এবং ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০০ মিটারে।
এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ছিল ১৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে পাবনার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ছিল ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত ৩ জানুয়ারি রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসে ৫ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
শীতের কারণে বিভিন্ন শীতকালীন রোগের প্রকোপও বেড়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি।
রাজধানীর শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, শৈত্যপ্রবাহের কারণে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ঠান্ডাজনিত রোগের রোগী বাড়ছে। এ সময় শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ইতিহাসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রংপুরের সৈয়দপুরে ছিল ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ভিওডি বাংলা/জা






