শুধু মানুষ বুঝি না

শুধু মানুষ বুঝি না
আমি পারি সহ্য করতে
পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা,
মাথার ভারি ব্যথা,
শরীরে আগুন জ্বালানো দগ্ধ ক্ষত,
জ্বরের পর জ্বর—১০৫° ডিগ্রীর প্রলয়
সব সইয়ে নিই নীরবে, মুখ ফুটে কিছু বলি না।
কিন্তু একফোঁটা কথার বিষে
জ্বলে ওঠে বুকের ভেতর,
সেই আঘাত ঢুকে যায় রক্তের প্রতিটি কণায়,
বুকে লেগে থাকে ইপোক্সি'র মতো—
না ধুয়ে যায়, না শুকায়,
শুধু জ্বালায়… দিনের পর দিন।
আমি পারি সব ভুলে যেতে— প্রিয় মুখ,আপন সম্পর্ক,
একসময় বুকের পাশে রাখা শপথ,
প্রান্তরের ঘাসে গড়াগড়ি খাওয়ার দুপুর,
শৈশবের সাদা ঘুড়ি উড়ে যাওয়া আকাশ,
শরতের রুপালি জ্যোৎস্না—
সবই মুছে দিতে পারি স্মৃতির পাতা থেকে।
কিন্তু কথা দিয়ে কথা না রাখা মানুষগুলো?
তাদের আমি ভুলতে পারি না,
কারণ আমি মনে রাখি কারা বলেছিল—
আমি থাকবো আর থেকেও না থাকার অভিনয় করেছিল।
মনে রাখি সেই মুহূর্তগুলো,
যখন আমি ছিলাম অন্ধ বিশ্বাসের প্রতিমা,
আর তারা ছিলো কেবল সময়ের মিথ্যা।
আমি অনেক কিছু বুঝি—
সভ্যতার ইতিহাস,
ভূগোলের পর্বত-মহাসাগর পার্থক্য,
জগৎের মোহময় পরত,
বুঝি মায়া, জানি এই প্রেমও ক্ষণিক,
ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা—
সবই হয়তো ক্ষণস্থায়ী ছায়া।
তবুও যেটা বুঝি না,তা হলো মানুষ।
দিন, মাস, এমনকি বছরও কাটিয়ে দিলেও
একজন মানুষের মুখের হাসির ভেতর
লুকিয়ে থাকা ভাঙনের ইতিহাস,
তার নীরবতা, তার ফাঁকি—
আমি বুঝে উঠতে পারি না।
মানুষ সবচেয়ে জটিল রহস্য,
সবচেয়ে তীব্র আঘাতের উৎস,
সবচেয়ে মায়াবী অভিনয়ের শিল্পী।
আর আমি? সব পারি—
তবুও মানুষকে বুঝতে পারি না।
এটাই আমার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
.....................হাসান সেলিম
ভিওডি বাংলা/ এমএম



