কুয়েতে ভিসা সিন্ডিকেট
আটাব সভাপতি আরেফের বিরুদ্ধে প্রতিযোগীতা কমিশনের অনুসন্ধান

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে সাবেক পরিচিত আটাব সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফকে প্রতিযোগীতা কমিশন তলব করেছে। সরকারী সূত্রে জানা গেছে, কুয়েতে শ্রমিক ভিসা বা কাজের ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য নির্ধারিত ফি মাত্র ৫ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু আরেফের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট এই ফি’র বাইরে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিযোগীতা কমিশন ইতিমধ্যেই একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। দলের দায়িত্বে রাখা হয়েছে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে। আগামী ৮ জানুয়ারি আরেফকে কমিশনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, হাজির না হলে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ধরা হবে।
সোর্সগুলো জানাচ্ছে, আরেফ দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কুয়েতে কাজের ভিসা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ সময়ে অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কুয়েতে ভিসা নিয়ে গিয়েছেন। সিন্ডিকেট ভিসার পাশাপাশি বিমান গ্রুপ টিকিট মজুদ করে তা উচ্চ মূল্যে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
আরেফ মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেড এবং এয়ার স্পীড প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জাতীয় সংগঠন এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর সর্বশেষ সভাপতি ছিলেন। তবে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কারণে ২০২৫ সালের আগস্টে তার নেতৃত্বাধীন কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
সূত্র জানায়, আরেফ আটাবের শীর্ষ পদ ব্যবহার করে কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং নিয়ন্ত্রণ করতেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভিসার জন্য নির্ধারিত ফি ৫ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করে ৩৫-৪০ হাজার টাকা নিতেন। এভাবে তারা গত ৮ বছরে শত শত কোটি টাকা হাতিয়েছে।
কুয়েত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ষষ্ঠ বৃহত্তম গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের পঞ্চম বৃহত্তম উৎস। দেশে প্রায় ২,৯০০ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১৪-১৫টি এজেন্সি সিন্ডিকেট করে ভিসা প্রসেসিং করে আসছে।
প্রতিযোগীতা কমিশনের সূত্র জানায়, একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আরেফের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট ভিসার ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে এবং বিমান গ্রুপ টিকিট মজুদ করে তা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরেফের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবার কুয়েত সরকার উদ্যোগী হয়েছে। কমিশন ইতিমধ্যেই প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। এর আগে আরেফকে প্রতিযোগীতা আইন, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বলছে, সিন্ডিকেট ভাঙা হলে শ্রমিকদের ভিসা প্রসেসিং আরও স্বচ্ছ হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, রেমিট্যান্স প্রবাহও বৈধভাবে বৃদ্ধি পাবে।
কুয়েত ও বাংলাদেশি সংস্থাগুলো আরও জানাচ্ছে, সিন্ডিকেট ভাঙার ফলে ভিসা প্রসেসিং খরচ কমে শ্রমিকদের জন্য সহজ হবে। শ্রমিকরা প্রতারণার শিকার না হয়ে নির্ধারিত ফি দিয়ে ভিসা পাবেন।
এদিকে, আরেফ এবং তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় শাস্তি পেতে হবে। কমিশন আশা করছে, এ ধরনের পদক্ষেপ কুয়েতে রিক্রুটিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
সংক্ষেপে, আরেফের সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং ও বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বড় এক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রতিযোগীতা কমিশন আগামি দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা





