হাবিবুর রশিদ
ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে

বাংলাদেশে মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৯ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, এই সংগ্রাম কোনো ব্যক্তিগত বা ক্ষমতার লড়াই নয় এটি দেশ গড়ার সংগ্রাম।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে তিনি সব কথা বলেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, আমরা এখনো আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতরেই আছি। যতদিন পর্যন্ত এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলতেই থাকবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্র গঠনে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে বেগম খালেদা জিয়া একজন আপসহীন নেত্রী হিসেবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। ‘তিনি ছিলেন এবং থাকবেন বাংলাদেশের একমাত্র আপসহীন গণতান্ত্রিক নেত্রী।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান শুধু স্বপ্ন দেখান না, তিনি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা দেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি যে পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে বিএনপির প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে পারলেই শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে হাবিব বলেন, গত ৩৮ বছর ধরে আমি আপনাদের সঙ্গে রাজপথে আছি। আজ এখানে দাঁড়ানো কোনো পুরস্কার নয় এটি আমার দায়িত্ব। এই এলাকাকে জাতীয়তাবাদী শক্তির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলতেই হবে।
তিনি বলেন, আমি থাকি বা না থাকি ধানের শীষ থাকবে। কারণ এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতীক। এই প্রতীকের জন্য বহু সহযোদ্ধা রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন।
নুরুজ্জামান জনি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে হাবিব বলেন, খিলগাঁও জোরপুকুর মাঠে নৃশংসভাবে জনিকে হত্যা করা হয়েছে। যদি আমরা তার রক্তের ঋণ শোধ করতে চাই, তাহলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতেই হবে।
বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটারদের কাছে যেতে হবে, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করতে হবে এবং পোলিং এজেন্ট নির্ধারণ করতে হবে। আমরা যদি এসব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, আমাদের পরাজিত করার ক্ষমতা কারো নেই।
তিনি বলেন, আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়বো। বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবো। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অতীতে এই এলাকায় যে উন্নয়ন করেছেন, আগামী দিনেও তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করবো।তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মিধা, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব মুয়াজ্জেম হোসেন, খিলগাঁও থানা বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক মাসুদ চৌধুরী, সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ আকন, যুগ্ম আহ্বায়ক জামিলুর রহমান নয়ন ও হাবিবুল্লাহ বাবু।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব চৌধুরী বিথি, খিলগাঁও থানা মহিলা দলের সভানেত্রী পারভীন আক্তার, সাধারণ সম্পাদক নুরজাহান আক্তার, ওয়ার্ড মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক লাভলি সহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







