নানামুখী তৎপরতায় এগোচ্ছে জামায়াত

সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বেশকিছুদিন ধরেই বেশি আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে নানামুখী তৎপরতায় এগোচ্ছে দলটি। তাদের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোটে সবশেষ যুক্ত হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। গত সেপ্টেম্বর থেকে অভিন্ন কয়েকটি দাবিতে যুগপৎভাবে আন্দোলন শুরু করে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দল।
জামায়াত ছাড়াও অন্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস। সর্বশেষ এবি পার্টিসহ মোট তিনটি দল যুক্ত হয়ে এ জোটে দলের সংখ্যা ১১টি।
জানা গেছে, ১১টি দল সর্বসম্মতভাবে প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থী ঘোষণা করবে। যেই দলের যেখানে ভালো অবস্থান, সেই আসনে ওই দলের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। যদিও এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। তবে কবে নাগাদ হবে, সেটিও নিশ্চিত করে কেউ বলছেন না। অবশ্য আলোচনার পর্যায়েই আছে। তথ্যমতে, জামায়াত ১১০টি আসনে সমঝোতার বিষয়ে আগ্রহী। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩৫ থেকে ৪০, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি তিন, এলডিপি তিন, বিডিপি দুই, জাগপা তিন, খেলাফত আন্দোলন চার এবং নেজামে ইসলাম পার্টি দুটি আসনে। তবে দলগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত করা হয়নি। দলীয় জোটের ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, আসন সমঝোতার বিষয়ে এখনো আলোচনা অব্যাহত আছে। আমরা চেষ্টা করছি একটি ফলপ্রসূ সমাধানের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ হওয়ায় প্রধান দলগুলো তাদের চূড়ান্ত ছক কষতে শুরু করেছে। নির্বাচনে জয় পেতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে জোট গঠন, ভাঙন এবং আসন ভাগাভাগির তীব্র দরকষাকষি। মাঠের ‘প্রধান শক্তি’ বিএনপি এবং শক্তি সঞ্চয় করা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতা আগামীর রাজনীতির নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্ভাব্য বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশেষ করে ভোটের আগে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত পর্দার আড়ালে এবং প্রকাশ্যে নানামুখী মেরূকরণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল আশঙ্কা-আপত্তির কথা এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘হতাশাজনক’ উল্লেখ করে কোনো কোনো দলের নেতারা বলেছেন, আবারও কোনো পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।
ভিওডি বাংলা/এম







