জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে ইইউর ২০০ পর্যবেক্ষক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে অন্তত ২০০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড. ইভার্স ইয়াবস।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মিসিন্তা লাসে, মিস আইরিনি-মারিয়া গুনারি ও ভাসিল ভামচানকা।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণেই আমরা এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নই।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
ড. ইভার্স ইয়াবস জানান, ইইউর একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দল গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তবে মূল নির্বাচনের সময়, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যসহ মোট প্রায় ২০০ জনের একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কমিশন দক্ষতার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঐতিহাসিক। একটি পূর্ণাঙ্গ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে। নির্বাচন কমিশনও বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইইউ মিশন প্রধান আরও জানান, তাদের পর্যবেক্ষণের মূল বিষয়গুলো হবে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, অবাধ ও সুষ্ঠু ব্যালট পরিচালনা এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা। পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও বিস্তৃতভাবে পরিচালিত হবে।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় রাজধানীর রেনেসাঁ হোটেলে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মিশনের কর্মপরিকল্পনা ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হবে।
ড. ইভার্স ইয়াবস বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র ও বৈচিত্র্যময় দেশ। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাক্ষী হতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে।
ভিওডি বাংলা/ এসএম/আ







