গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা, ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে ইউরোপের ডেনমার্কের অধীনে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ বাড়ছে।
এই প্রসঙ্গে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গ্রিনল্যান্ডে যদি কোনো বিদেশি বাহিনী অনুপ্রবেশ করে, তবে ডেনিশ সেনারা ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ নীতি অনুসরণ করবেন। ১৯৫২ সাল থেকে কার্যকর ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ অনুযায়ী, আক্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমতির অপেক্ষা না করে সেনারা সরাসরি হামলা চালাতে পারেন। ডেনিশ দৈনিক বার্লিংস্কের অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এই নিয়ম এখনও বহাল আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা প্রকাশ করেছেন। ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি উল্লিখিত করেছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার। আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে সামরিক ব্যবহারও সম্ভব।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান, কিন্তু সামরিক হুমকি চালাতে চান না। ডেনমার্কও এই আলোচনাকে ‘প্রয়োজনীয় সংলাপ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আর্কটিকের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প যতদূর প্রয়োজন, যেতে প্রস্তুত। তবে ডেনমার্ক বারবার জানাচ্ছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দও সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের ভূগোল ও অখণ্ডতা সম্মান করতে হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন আরও সতর্ক করে বলেন, “গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক অভিযান ন্যাটো জোটের অবসান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ধ্বংসের কারণ হতে পারে।”
ট্রাম্পের যুক্তি হলো, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
সংক্ষেপে, ডেনমার্ক স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, তারা বিদেশি হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ নিয়ে আলোচনার পরিস্থিতি চলছে। এই উত্তেজনা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







