• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বৈধতা সংকটে শাসকগোষ্ঠী

জনরোষে টালমাটাল ইরান, ইন্টারনেট বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৮ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রবল গণবিক্ষোভ ও নজিরবিহীন অস্থিরতায় দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এক চরম বৈধতা সংকটের মুখে পড়েছে। গত মাসের শেষদিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশটির ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং সরকারের শাসনব্যবস্থার প্রতি পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে এই গণ-অসন্তোষের সূত্রপাত। খবর রয়টার্সের।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্য বলছে, চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪ থেকে ৪২ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি সংঘর্ষে অন্তত আট জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

২০২২-২৩ সালের ‘মাহসা আমিনি’ আন্দোলনের সাথে বর্তমান বিক্ষোভের একটি বড় পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সে সময় নারীরা নেতৃত্বে থাকলেও, বর্তমান আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য হারে তরুণ সমাজ ও সাধারণ দোকানদারদের অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন মফস্বল শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভের মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান বর্তমানে ১৩.৫ থেকে ১৪ লাখে গিয়ে ঠেকেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা কেবল অর্থনৈতিক দাবি নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। অনেক জায়গায় "স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই" স্লোগান শোনা যাচ্ছে। এছাড়া, দেশের টাকা বিদেশে প্রক্সি যুদ্ধ (হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথি) অর্থায়নে ব্যয় করার বিরুদ্ধেও মানুষ স্লোগান দিচ্ছে। তাদের দাবি— "গাজা নয়, লেবানন নয়, আমার জীবন কেবল ইরানের জন্য।"

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা যাতে সংগঠিত হতে না পারে এবং নির্যাতনের কোনো ফুটেজ দেশের বাইরে না যেতে পারে, সেজন্যই এই ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে টিয়ার গ্যাস, প্লাস্টিক বুলেট এবং কিছু ক্ষেত্রে তাজা গুলি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শত্রুর কাছে নতি স্বীকার না করার প্রতিজ্ঞা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিক্ষোভের প্রশংসা করেছেন।

নির্বাসিত বিরোধীরা আরও বিক্ষোভের আহবান জানাচ্ছেন, কিন্তু দেশের ভেতরে তাদের সমর্থন অনিশ্চিত। অনেক ইরানি বিদেশি হস্তক্ষেপ চান না, কারণ দেশ আর যুদ্ধ সহ্য করতে পারবে না। তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ছাড়া শান্তি চান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঐতিহ্যগত দমন এবং ছাড়ের কৌশল সীমায় পৌঁছেছে। পরিবর্তন অনিবার্য মনে হলেও শাসনের পতন নিশ্চিত নয়।

ভিওডি বাংলা/ এমএম

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ
ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ
মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের পতাকা ছিঁড়লো উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা
মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের পতাকা ছিঁড়লো উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা
পুতিন মিত্রকেও অপহরণ করতে বললেন জেলেনস্কি
পুতিন মিত্রকেও অপহরণ করতে বললেন জেলেনস্কি