গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে চায় সরকার

গুজব ও অপতথ্য মোকাবেলায় গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহায়তা চেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। তিনি বলেছেন, “সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষিত রাখতে।”
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত দুই দিনের নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোদ্ধা হিসেবে সম্বোধন করে মাহবুবা ফারজানা বলেন, “আপনাদের ক্ষুরধার লেখনী এখন সবচেয়ে জরুরি। গুজব ও অপতথ্য রোধে শক্ত হাতগুলো আমাদের নরম হাতের সঙ্গে যুক্ত হোক। একসঙ্গে হাত ধরে এগোলে দেশ সুষ্ঠু পরিণতির দিকে যাবে।”
তিনি আরো বলেন, “গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের সচেতন করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তথ্য ও সম্প্রচার সচিব জানান, দেশের প্রান্তিক প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো গণভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না। এ বাস্তবতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলায় ভোটালাপ, উঠান বৈঠক ও ১০ মিনিটের ব্রিফিং কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ‘তথ্য আপা’ গণভোটের নিয়ম-কানুন শেখাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “তরুণ, নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোট থেকে দূরে থাকা প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১২ হাজার নারী ভোটারকে ভোটমুখী করতে আলাদা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পিআইবি পরিচালক কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব রিয়াসাতুল ওয়াসিফ, জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদসহ সংশ্লিষ্টরা।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, “মাঠ পর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট-চেক বিষয়ে আরো প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। পিআইবি ও ডিআরইউ যৌথভাবে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত করবে বলে আশা রাখি।”
কর্মশালায় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। প্রথম দিনের প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন নিউজ নেটওয়ার্কের মুখ্য প্রশিক্ষক জিয়াউর রহমান।
ভিওডি বাংলা/ এমএম





