ঢাকায় শীত কেমন থাকবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ঢাকায় আজ দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে আগের তুলনায় দিনের বেলায় শীতের অনুভূতি কিছুটা বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে সার্বিকভাবে আবহাওয়া শুষ্কই থাকবে।
এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, যা দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৪৪ মিনিটে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় গতকালও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর পাশাপাশি চার জেলা-নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায়ও বয়ে গেছে শৈত্যপ্রবাহ।
রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৬। তাই সব মিলিয়ে গতকাল ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। ওই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০-এর মধ্যে থাকলে ওই এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এমন আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও দু-তিন দিন থাকতে পারে।
নীলফামারীতে গতকাল সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানায়, এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ এবং পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে। এদিন দৃষ্টিসীমা ছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটার।
গত তিন দিনে মাত্র ঘণ্টাখানেক সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের পর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
ভিওডি বাংলা/জা







