আলোচনা-সমালোচনা দুইটাই চাই
দেশে কী হয়েছে আমি জানি- তারেক রহমান

দেশের মানুষের জন্য নিজের কর্মপরিকল্পনা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান এই কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদেরকে ঘিরে। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। যেমন, ফ্যামিলি কার্ড এর একটি পরিকল্পনা… একজন নারী এটা পাবেন, একজন গৃহিনী বা একজন হাউসওয়াইফ এটা পাবেন। কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়…৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেব, এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই এক কার্ড পাবেন। আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটির কথা বলেছিলাম সেটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।'
চেয়ারম্যান হিসেবে গত রাতে দায়িত্ব গ্রহনের পর তারেক রহমানের দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক,ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
‘সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয় ইয়েস সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে।একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজকে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে সমাজের সকল মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহ্বান রাখতে চাই যে, আমাদের বিভিন্ন মত পার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলোচনা করতে পারি, আলাপ করতে পারি। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস যেটা আমরা ১২ তারিখ(ফেব্রুয়ারি) থেকে ইনশাল্লাহ শুরু করতে যাচ্ছি। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে, আমাদের জবাবদিহিতাটা চালু রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে। সেটি জাতীয় পর্যায়ে হোক সেটি লোকাল পর্যায়ে হোক অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হোক, পৌরসভা নির্বাচন, লোকাল পর্যায়ে নির্বাচন হোক, সেটা কোনো ট্রেড বডির ইলেকশন হোক। আমার যেটা বিশ্বাস আমরা যেকোনো মূল্যে যদি এই জবাবদিহিতাটা, গণতান্ত্রিক প্রসেসটা যদি আমরা কন্টিনিউ করতে পারি অনেক বেগ হয়ত আসবে, অনেক কঠিন হবে কিন্তু একটা সার্টেন টাইম পরে আমরা যদি গণতান্ত্রিক প্রসেসটাকে কন্টিনিউ করে যেতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।'
‘আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি’
তারেক রহমান বলেন, ‘কাউকে আঘাত না করিয়ে আমি বলতে চাইছি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্য কাউকে আমি আঘাত করতে চাইছি … আমি আমার চিন্তাটা শুধু উনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি যে, আসুন আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, দেশের নারীদের অধিকার, এমপাওয়ারমেন্ট, কর্মসংস্থান পরিবেশ… সবকিছু মিলিয়ে এই যে বিষয়গুলো যেটি একটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। আমরা অনেকদিন ধরে রিফর্মর বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই রিফর্মের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে যে তিনটি পার্ট আছে। একটি হচ্ছে সাংবিধানিক পার্ট, একটি হচ্ছে আইনগত পার্ট এবং আরেকটি হচ্ছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নিরাপত্তা, তাদের সিকিউরিটি সবকিছু নিয়ে একটি পার্ট আছে। আমরা সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, মানুষের প্রতিদিনকার প্রত্যেকটি মানুষ সকল সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের প্রতিদিনকার যেই চাওয়া-পাওয়াগুলো, প্রয়োজনগুলো সেটা নিয়ে বোধহয় আমরা আলাপ আলোচনা একটু কম করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আলোচনা করা উচিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আলোচনা করা উচিত। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করছি, সিম্পোজিয়াম করছি আলোচনা করছি, তর্ক বিতর্ক করছি। অবশ্যই ওগুলো প্রয়োজন আছে কিন্তু অ্যাট দা সেম টাইম আমরা যদি মানুষের প্রতিদিনকার তার চিকিৎসা ব্যবস্থা কী হবে, তার কর্মসংস্থান কী হবে, তার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা কী হবে, রাস্তায় বের হলে নিরাপদে সে ফিরে আসতে পারবে কি না…. এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের প্ল্যান প্রোগ্রাম আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, আমাদের চিন্তাভাবনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত।'
‘নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নামবেন ২২ জানুয়ারি’
তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।'
‘আলোচনা-সমালোচনা দুইটাই চাই’
তারেক রহমান বলেন, ‘‘ আমরা ইনশাল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আমরা পাই যেটা আমাদেরকে সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শুধু সমালোচনা সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখছি।’
‘আমরা ৫ আগস্টে ফিরে যেতে চাই না’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ই আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা। একই সাথে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের একটি জানাজা আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়। যারা আমার দলের নেতাকর্মী সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে বোধহয় এই দুটি উদাহরণ বাদ বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে, আসলে ৫ই আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।’
‘মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে না যায়’
তারেক রহমান বলেন, ‘হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট। আমি সেজন্যই সকলকে অনুরোধ করব দলমত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেটির অনেক সমস্যার সমাধান হয়ত আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সেজন্যই অনেকের মুখে অনেক কথা শুনি, হতাশার কথা আমরা শুনি কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।’
‘দেশে কী হয়েছে আমি জানি’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি দেশে অনেক দিন থাকতে পারিনি… কী কারণে সে প্রসঙ্গে আপনাদের কম বেশি ধারণা আছে। তবে সারাক্ষণই দেশের সাথে আমার যোগাযোগ ছিল। দেশের মানুষের সাথে কী হয়েছে? এখানে মাহমুদুর রহমান(আমার দেশ সম্পাদক) সাহেব বলেছেন একটি উদাহরণ দিয়ে… উনার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি বলতে চাইছি, উনার সাথে উনার রক্ত মাখা ছবি এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। কাজেই উনার সাথে কী হয়েছে আমি যেমন জানি, রুহুল আমিন গাজী(ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রয়াত সভাপতি) সাহেবের সাথে কী হয়েছে যেভাবে উনি মৃত্যুবরণ করেছেন জেলের মধ্যে সেটি আমি জানি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমার ৬০ লক্ষ নেতাকর্মী এবং তার থেকে আরেকটি হৃদয় বিদারক আমার জন্য হচ্ছে সেটি হচ্ছে, আমার মায়ের সাথে কী হয়েছে।’
‘নতুন প্রজন্ম দিক নির্দেশনা চায়’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমার দেশে ফিরে আসার পরে আমি যে কয়বার আমার বাইরে যাওয়ার একটু বেশি সুযোগ হয়েছে… আমি সাভারে গিয়েছিলাম আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে , নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম না আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই মনে হয় কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে। আমরা যারা রাজনীতিবিদ করি আমাদের কাছে হয়ত অনেক প্রত্যাশা । সকল প্রত্যাশা হয়তবা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০০৪ এর ২৪ সালের ৫ আগস্ট এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে আমরা যদি দেশের স্বাধীনতা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।’
যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একটি ছোট ঘটনা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরতে চাই। আমাকে চিকিৎসার জন্য এ দেশ থেকে ২০০৮ সালে চলে যেতে হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। ২০০৮ সালে যাবার পরে ২০১০ সালে সেখানে প্রথম একটি নির্বাচন আমি দেখেছিলাম। যেহেতু সেটি নির্বাচন ছিল স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার একটি ইন্টারেস্ট ছিল…. টিভির সামনে বসে আমি ডিবেট দেখছিলাম। সেখানে দুটি মেইন দলের নেতার মধ্যে লেবার এবং কনজারভেটিভ দলের মধ্যে এই ডিভেট। অনেকদিন ধরে লেবার ছিল. ২০১০ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ আসে তো দুই দলের দুই নেতার মধ্যে একটি আলোচনা হচ্ছিল। খুব দুঃখজনক হলো বাংলাদেশ বাদই দিলাম শুধু ঢাকা শহরের মধ্যেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেই। গত ৫৪/৫৫ বছরে আমরা মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি… এটি খুব দুঃখজনক ব্যাপার। এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিয়ে ওই দুই নেতার মধ্যে তখন কথা হচ্ছিল। যতটুকু আমার মনে আছে তখন ইমার্জেন্সির জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কল করলে ২০ মিনিটের মত সময় লাগত অ্যাম্বুলেন্স আসতে। একজন বলছে ২০ মিনিট লাগে… এটাকে আমরা ১৯ মিনিটে নিয়ে আসব। আরেকজন বলছিল ২০ মিনিট লাগে এটাকে আমরা ১৫ মিনিটে নিয়ে আসব। অর্থাৎ একজন এক মিনিট কমাচ্ছে একজন ৫ মিনিট কমাচ্ছে। এই কাজটি তারা তাদের জনগণের জন্যই করতে চাইছে।’
‘পানি সমস্যা’
তারেক রহমান বলেন, ‘পানির সমস্যা…এখন যেভাবে চলছে এভাবে যদি চলে আমার যতটুক ধারণা আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর হার্ডলি ২০ বছর পরে ঢাকা শহরে কোনো জায়গা থেকে পানি আমরা পাব না। আমাদের বুড়িগঙ্গা নদী সম্পূর্ণরকম পলিউটেড… ১০০% পলিউটেড। শীতলক্ষ্যা নদী ৫০% এর মত পলিউটেড। এখন মেঘনা নদী থেকে পানি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে , কয়েকটা প্রজেক্ট কাজ হচ্ছে। কিন্তু এটার পানিও আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে পলিউটেড হয়ে যাবে। ঢাকা শহরে যে সাড়ে তিন কোটি মানুষের মতন মানুষ বাস করছে… এরা পানি পাবে না। পানির অপর নাম জীবন। সারা দেশে যদি এই সমস্যা শুরু হয় তাহলে বিষয়টি কত ভয়াবহ হতে পারে আমার মনে হয় এইরকম বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় এখন আলোচনা হওয়া উচিত। সেটি সংসদে হোক সেটি বিভিন্ন সেমিনারে হোক। কারণ তা না হলে একটি ভয়াবহ ভবিষ্যৎ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে হয়তবা হুইচ ইজ ভেরি আনওয়ান্টেড।’
‘কর্মসংস্থান’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের ২০ কোটির মত মানুষ এই দেশে এবং এই ২০ কোটি মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের সদস্যদেরকে বিভিন্নভাবে আমাদেরকে উপায় বের করতে হবে… কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় … সেটি দেশের ভিতরে হোক সেটি দেশের বাইরে হোক। আমরা যদি এটি সক্ষম না হই এই কাজটি করতে তাহলে আমরা ৫ আগস্ট বলি, ৯০ এর আন্দোলন বলি, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ বলি, আমাদের মনে হয় খুব সম্ভবত প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।’
নারী-পুরষের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গত বছরে ৭ হাজারের মত মানুষ রোড অ্যাক্সিডেন্টসে মারা গিয়েছে। আমার কাছে বিষয়টি খুব অস্বাভাবিক লাগে। আমার ধারণা আপনারা যদি একটু চিন্তা করেন আপনাদের প্রত্যেকের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক লাগবে কিন্তু ঘটনাটি ঘটছে…. কোনো বছর বেশি কোনো বছর কম। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি কেন ঘটবে? একজন মানুষ রোড অ্যাক্সিডেন্টে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারা মারা যাচ্ছে আমরা যদি তাদের সামাজিক স্ট্যাটাসটা দেখি খুব অবস্থাপন্ন লোক যারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তারা যে মারা যাচ্ছেন তা না। কিন্তু যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে সেই মানুষটি হয়তোবা তাদের ফ্যামিলির অনলি আর্নিং সোর্স মারা যাবার পরে সেই ফ্যামিলিটির কী হচ্ছে অথবা লোকটি যদি পঙ্গু হয়ে যায় মানুষটি যে পঙ্গু হয়ে যায় তাহলে তার ফ্যামিলির উপরে কী হচ্ছে। এই বিষয়টি বোধহয় আমাদেরকে নজরে আনা উচিত। এরকম অনেকগুলো বিষয় আছে যে বিষয়গুলো আমার মনে হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত।’
কৃষকদের অবস্থা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের বিভিন্ন অসহায়ত্বের নিউজ আপনাদের সংবাদপত্রে প্রকাশ হয় বিভিন্ন সময়ে আপনাদের খবরে প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে সেটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হোক সেটি মেইন মিডিয়া প্রিন্টেড মিডিয়াতেই হোক প্রকাশিত হয়েছে। আমার বিগত সরকারের কথা বলব, আমার দলের বিগত সরকারের কথা বলব সেই সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এত বিশাল সংখ্যাক কষক যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে, অন্নের সংস্থান করছে সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়? তাদের হয়ত সেভাবে বলার সুযোগ নেই। এখানে আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন, আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শুনতে জানতে সহজ হয় কারণ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি। কিন্তু ওই কৃষকগুলো যাদের কোনো ভেন্যু নেই যারা এরকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো? কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।’
নারীদের শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে এই নারীরাই শিক্ষিত হয়েছে এদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটি বলেছিলাম সেটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে সেটাই এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে। আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডটি আপনাদের সামনে একটু তুলে ধরতে চাইছি আমাদের পরিকল্পনাগুলো। কারণ এখানে একজন সাংবাদিক উল্লেখ করেছেন যে ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং এর যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম আই হ্যাভ এ প্ল্যান সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদেরকে ঘিরে। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড যে নারী পাবে সেটি সে সারাজীবন পাবে একজন গৃহিনী বা একজন হাউসওয়াইফ যে পাবেন কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়…৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেব, এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই এক কার্ড পাবেন।’
‘দুর্নীতি কমানো’
তারেক রহমান বলেন, ‘করাপশনটাকে যাতে একটা স্প্রেড না করে, করাপশনটা যাতে স্বাভাবিক একটা পর্যায়ে থাকে। কিছু তো এনোমেলিজ হতে পারে সেটি আমরা গ্রাজুয়ালি ঠিক করব।’
‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ’
তারেক রহমান বলেন, ‘আরেকটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হচ্ছে যে, আমাদের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে। আমরা যদি সৌদি আরব বা কুয়েতের সবগুলো তেল খনিও এখানে নিয়ে আসি তাহলে হয়তো আমরা এই এত রিসোর্স দিয়ে আমরা এত মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারব না। সেজন্য আমাদেরকে অবশ্যই পপুলেশন কন্ট্রোলে যেতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে এবং সেজন্য এই হেলথ কেয়ার যে নিয়োগ হবে এই হেলথ কেয়ারের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ…. ১ লক্ষের মত আমাদের টার্গেট নিয়োগ করা। এই হেলথ কেয়ারের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মীকে নিয়োগ করতে চাই যাতে নারী কর্মীরা গিয়ে ঘরে ঘরে বোঝাতে সক্ষম হন যে, কী জন্য প্রয়োজন হাইজিন মেইনটেইন করা এবং পরিবারকে সুস্থ রাখা, একই সাথে পরিবারকে একটি একটি রিজনেবল সাইজের মধ্যে রাখা পরিবারের সদস্য সংখ্যা।’
কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, সবার জন্য চিকিৎসা সুবিধা, তরুন সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ভোকেশনাল টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউশন আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, আইটি সেক্টার, উদ্যোক্তা তৈরি করা, আইটি পার্কগুলোকে নতুনভাবে সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা, কন্টেট তৈরির কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে আরও সহজ করা।
এই অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে যায় যায় দিনের শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, মানব জমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাবের এএমএম বাহাউদ্দিন, আমার দেশ এর মাহমুদুর রহমান, নিউএজের নুরুল কবির, যুগাস্তরের আবদুল হাই শিকদার, সংবাদের আলতামাশ কবির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর ইনাম আহমেদ, কালের কন্ঠের হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রুপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, বনিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, ডেইলি সানের মো. রেজাউল করিম, সুরমা‘র (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, দেশ বার্তার সালেহ বিপ্লব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন প্রমূখ ছিলেন।
নয়া দিগন্তের মাসুমুর রহমান খলিলী, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরীফ, সময়ের আলো‘র সৈয়দ শাহনাজ করিম, জনকন্ঠের খুরশীদ আলম, বাংলা বাজার পত্রিকার রাশেদুল হক, যুগান্তরের এনাম আবেদীন, টাইম অব বাংলাদেশ এর ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, দৈনিক নাগরিক সংবাদের সুমন প্রামানিক, দিকপালের সম্পাদক শাহীন রাজা, নাগরিক প্রতিদিন হাসনাইন খরশীদ প্রমূখ ছিলেন।
ছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সুবহান, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ভিওডি বাংলার সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুস সালাম।
বিবিসির সম্পাদক মীর সাব্বির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম প্রমূখ ছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল জম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেডএম জাহেদুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে রয়েছেন সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, ইটিভির আবদুস সালাম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিভিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএনের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্র্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এমএ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন এর তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী, ভিওডি বাংলা’র মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক প্রমূখ।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, একেএম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিকরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিড়িয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমার রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম ছিলেন অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।
ভিওডি বাংলা/ এমএম







