মানচিত্রে আটকে থাকা ফেলানী....

মানচিত্রে আটকে থাকা ফেলানী
কাঁটাতারের গায়ে
আজও লেগে আছে এক বিকেলের রক্ত,
সেই রক্তের নাম—ফেলানী,
রাষ্ট্রের মানচিত্রে আটকে থাকা
একটি কাঁপতে থাকা প্রশ্ন।
সে অপরাধী ছিল না,
তার হাতে ছিল না বিদ্রোহ,
ছিল শুধু মায়ের কাছে ফেরা,
বাবার হাত ধরার নীরব ইচ্ছে।
এক পা সামনে বাড়াতেই
গুলি ঠিকানা খুঁজে নিল বুক,
স্বপ্ন ভেঙে পড়ল শব্দহীন,
আকাশ দেখল ঝুলে থাকা দেহ।
সেদিন শুধু ফেলানী ঝুলেনি,
ঝুলে গিয়েছিল আমাদের বিবেক,
মানবাধিকার দাঁড়িয়ে ছিল
নিঃশব্দ সাক্ষীর কাঠগড়ায়।
বিচার তখন
কূটনীতির ভাষায় কথা বলল,
মানুষের মৃত্যু হলো
একটা “দুঃখজনক ঘটনা”।
ফেলানী মরে শেষ হয়নি,
সে প্রতিদিন ফিরে আসে—
প্রতিটি সীমান্ত হত্যায়,
প্রতিটি নীরব সংবাদে।
কাঁটাতার জানে,
এই মৃত্যু ভুল ছিল না,
এটা ছিল শক্তির অহংকার,
আর দুর্বলতার নির্মম মূল্য।
আজ শোকের ফুল নয়,
আজ প্রশ্নের আগুন জ্বালাই—
মানবতা কি ভিসা চায়?
ন্যায়বিচার কি সীমান্ত মানে?
ফেলানী,
তুমি কেবল একটি নাম নও,
তুমি আমাদের লজ্জা,
আমাদের ব্যর্থতার স্থায়ী দলিল।
যতদিন সীমান্তে মানুষ ঝুলবে,
যতদিন বিচার মুখ ফিরিয়ে নেবে,
ততদিন তুমি বেঁচে থাকবে—
কাঁটাতারের ওপারে নয়,
আমাদের বুকের মাঝে।
----- শিমুল বারী
ভিওডি বাংলা/ এমএম



