• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশে ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ইইউ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক    ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৩ পি.এম.
ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবস। ছবি-সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে গোটা বাংলাদেশে ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরলো সংস্থাটি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস আইজাবস। 

ইভারস বলেন, “ইইউ একটি প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে। শনিবার থেকেই তারা বাংলাদেশের সব বিভাগে ছড়িয়ে পড়বেন এবং ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচারকাজ পর্যবেক্ষণ করবেন।”

এই মিশনে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশ ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও থাকবেন। ভোটের দিন ঘনিয়ে এলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরাও এই দলে যোগ দেবেন।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, “পর্যবেক্ষক পাঠানোর এই সিদ্ধান্তটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ইইউর দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ আমাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”

আফ্রিকা ও ইউরোপে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, “একটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন খুব জরুরি। কারণ, গণতন্ত্রই মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে।”

মাঠের পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ইজাবস বলেন, "এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো। তবে আমি এখনও সব পক্ষের সঙ্গে দেখা করিনি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।"

পর্যবেক্ষক দলটি মূল্যায়ন করবে, বাংলাদেশের নিজস্ব আইন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না। তারা নির্বাচনের আইনি কাঠামো, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, প্রচারণার পরিবেশ, প্রার্থী ও সমর্থকদের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া ভোটার তালিকার ওপর মানুষের আস্থা, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং রাজনীতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।

এবারের পর্যবেক্ষণে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। একটি বিশেষজ্ঞ দল টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকার পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও পর্যবেক্ষণ করবে। ভোটের আগে ভোটাররা সব পক্ষ সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ ও যথেষ্ট তথ্য পাচ্ছেন কি না, তা মূল্যায়ন করাই হবে তাদের মূল কাজ।

ভোটের দিন সকাল থেকে কেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, গণনা এবং ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ইইউ পর্যবেক্ষকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইভরাস ইজাবস পরিষ্কারভাবে বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণেই ইইউ এই পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছে। তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং কারও কাজে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলবে।” 

তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচন পরিচালনা করতে বা নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিতে আসিনি। আমাদের কাজ শুধু পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করা।”

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর সাথে একটি ঐতিহাসিক সংযোজন হিসেবে একই দিনে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটও আয়োজন করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটারদের সুবিধার জন্য দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হবে; জাতীয় নির্বাচনের জন্য সাদা এবং গণভোটের জন্য গোলাপি।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া বর্তমানে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে, যা ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এরপর ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থীদের জন্য প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়ে তা নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আইপিএল ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে প্রভাব নেই: বাণিজ্য উপদেষ্টা
আইপিএল ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে প্রভাব নেই: বাণিজ্য উপদেষ্টা
‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে ফটোকার্ড প্রকাশ
‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে ফটোকার্ড প্রকাশ
প্রথমার্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ২৭ জন
দ্বিতীয় দিনের শুনানি প্রথমার্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ২৭ জন