শামীম হায়দার পাটোয়ারারী
৭০টি আসন পাওয়ার আশা জাপা মহাসচিবের

ভোট সুষ্ঠু হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৭০টি পর্যন্ত আসন পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারারী।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে দলের প্রার্থীদের আপিলের শুনানিতে এসে গণমাধ্যমকে একথা বলেন তিনি।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘ভোটের মাঠ অত্যন্ত ফ্লুইড। যদি সুষ্ঠু ভোট হয়, লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকে, আমি মনে করি ৪০ থেকে ৭০টি আসন পাবে জাতীয় পার্টি (জাপা)।’
প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি যে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গেলে প্রার্থীর কমফর্ট খুব বেশি প্রয়োজন। যারা নির্বাচন করে তারা জনস্বার্থে নির্বাচনে আসে। আমরা দেখেছি তুচ্ছ ভুলের কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।”
জাপা মহাসচিব বলেন, “১২ তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত এই ১৭ দিন ডিসেম্বর মাসে দেশে খুব একটা স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল না। ওসমান হাদিকে হত্যা হয়েছে। তাকে যখন গুলি করা হয়েছে তখন দেশে আনরেস্ট ছিল। মৃত্যুর খবরের পরে দেশে দুই তিন দিন আনরেস্ট ছিল।”
“তারেক জিয়া দেশে আসছেন। সব মিলিয়ে প্রার্থীরা খুব কমফর্টেবলি মনোনয়ন জমা নিয়ে জমা দিতে পারেননি। প্লাস আমাদের মনে হয়েছে অন গ্রাউন্ড, যারা আমাদেরকে সহযোগিতা করতো আগের ভোটে ইলেকশন কর্মকর্তারা টিএনওরা ডিসিরা, সেখান থেকেও প্রার্থীরা স্বস্তস্ফুর্ত সহযোগিতা পরিপূর্ণভাবে পায়নি।”
তিনি বলেন, “এবার আমরা দেখেছি টেকনিক্যাল গ্রাউন্ডে প্রচুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। সৌভাগ্যের বিষয় অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল ওপেন মাইন্ড নিয়ে যাচাই বাছাই করে তারা সেগুলো এলাও করছেন আপিলের ক্ষেত্রে। এটি একটি ভালো দিক।”
শামীম পাটোয়ারী বলেন, “এখন রিটার্নিং কর্মকর্তা কেন তাদের এই পজিটিভ ডিসক্রিশন ব্যবহার করতে পারেননি। আমি বলব মবের ভয়ে। মবতন্ত্র রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ডমিনেট করেছে। যে কারেকশনগুলো তারা করতে পারতেন, বলতে পারতেন, এলাও করতে পারতেন। মবের ভয়ের কারণে তারা তা পারেনি। কারণ তাৎক্ষণাৎ তাকে একটা ট্যাগিং করে দেওয়া হতো। তাৎক্ষণিক তাকে দোসর বলা হতো। এই ট্যাগিং এর ভয়ে ভারাক্রান্ত প্রশাসন স্বস্তঃস্ফূর্ত ভোট করতে পারবে না। ভোট করতে গেলে স্বস্তঃস্ফূর্ততা লাগবে।”
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রশাসনকে ফার্ম হতে হবে। ডিক্টেট করতে হবে। ডমিনেট করতে হবে। ল’ বাস্তবায়ন করতে হবে। লেট হু ইজ হাই। লজ এভিন। যে যত বড়ই হোক সে ল এর নিচে। কিং ইজ আন্ডার নোবডি। ‘আন্ডার গড এন্ড ল’ আমরা ১০০০ বছর ধরে ইংলিশ লতে পড়ে আসছি। তো আজকের মব এই মব কি ল এর আন্ডারে না? মব অবশ্যই ল এর আন্ডারে এবং ল মব অবশ্যই আইন প্রশাসনকারী সংস্থার অধীনে। অত্যন্ত নিন্দা জানাচ্ছি।”
শামীম পাটোয়ারী মনে করেন, ব্যাপক হারে সেনা মোতায়ন, ব্যাপক হারে পুলিশ মোতায়ন, প্রশাসনকে দৃঢকরণ না করলে আমরা একটা ফলহীন মানহীন ইলেকশনের দিকে যেতে পারি।
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে সরকার যারা হবেন তাদেরকেও বুঝতে হবে যে মানহীন একটি নির্বাচনের সরকার যদি গঠিত হয় তাদের ম্যান্ডেট ঘাটতি হবে। তারা দেশ চালাতে হোঁচট খাবে। অর্থাৎ এখন এখানে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। সকল দলই একত্রিত হয়ে স্বস্তঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে যাবে। সবাই সবাইকে স্পেস দেবে। আমরা মনে করি এরকম একটি সমঝোতা আলোচনা প্রত্যেক নির্বাচনের আগেও হয়েছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে শামীম হায়দার বলেন, “দুটি বিষয়; একটা হচ্ছে যে জাতীয় পার্টি অনেক আমরা অস্বীকার করব না। তবে কোনো অংশই ভেঙে খুব বড় হতে পারেনি। জাতীয় পার্টির মূল অংশটি জিএম কাদেরের অধীনে আছে। লাঙ্গল জিএম কাদেরের আছে এবং সেই অংশটি শক্তিশালী।”
জাপা মহাসচিব বলেন, “একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রয়োজন। দেশে বর্তমানে আমরা বলব কিছুটা বিএনপি জামাতের সরকার বিদ্যমান। কারণ তাদের লিস্ট অনুযায়ী প্রশাসন সাজানো হয়েছে। সেখান থেকে নিরপেক্ষতার সরকার নিরপেক্ষতার প্রশাসন তো দেখাতে হবে। নির্বাচন কমিশনকেই দেখাতে হবে।”
তিনি বলেন, “কমিশনের এখনই উচিত প্রশাসনকে রদবদল করা। প্রশাসনের যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদেরকে ট্রান্সফার করা এবং লেভেল প্লেইং ফিল্ডের পরিবেশ সৃষ্টি করা।”
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ






