• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা, সতর্কতায় ইসরায়েল

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৫ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে এমন সম্ভাবনায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিকবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করতে ইরানের শাসকদের সতর্ক করেছেন। গতকাল শনিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’ রয়েছে।

সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলি নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—এমন সূত্রগুলো ইসরায়েলের এই উচ্চ সতর্কতা বাস্তবে কী বোঝায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

উল্লেখ্য, জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের একটি যুদ্ধ হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়।

গতকাল এক ফোনালাপে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছেন ওই কথোপকথনে উপস্থিত এক ইসরায়েলি সূত্র। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে, যদিও আলোচনার বিষয়বস্তু কী ছিল, তা তিনি জানাননি।

ইরানজুড়ে বিক্ষোভ চললেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সেখানে হস্তক্ষেপের কোনো আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তবে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণে দুই চিরশত্রু দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাকি সব বিষয়ে, আমার মনে হয়, আমাদের ইরানের ভেতরে কী ঘটছে, সেটাই দেখা উচিত।’

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে; এমনটি জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে তেহরানের তথাকথিত কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে ভাবতে গিয়েই এই ব্রিফ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা বলেছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে ইরানের সরকারের বিক্ষোভ দমনের প্রচেষ্টার জবাবে সামরিক হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সামনে যেসব বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে তেহরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের দিকেই ইঙ্গিত করে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান হয়তো ইতিহাসে কখনো না দেখা স্বাধীনতার মুখোমুখি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!’

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ/এমপি

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইসরায়েলে ক্লাস্টার বোমা হামলা চালিয়েছে ইরান
ইসরায়েলে ক্লাস্টার বোমা হামলা চালিয়েছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য একের পর এক ‘নরকের দরজা খুলবে’: আইআরজিসি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য একের পর এক ‘নরকের দরজা খুলবে’: আইআরজিসি
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ইসরায়েলের হামলা
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ইসরায়েলের হামলা