• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

প্রেস সচিব

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন আইনি ও নৈতিকভাবে অপরিহার্য

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২০ পি.এম.
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি-সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন আর কেবল রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়, বরং আইনি ও নৈতিকভাবে এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (১১ জানুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি সুইডেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘নেত্র নিউজ’ শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘অ্যান আই ফর অ্যান আই’ বা ‘চোখের বদলে চোখ’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু তুলে ধরে শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন আইনি ও নৈতিক অপরিহার্যতা। শেখ হাসিনাকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনতে হবে। মনে রাখতে হবে, কেবল নির্বাসিত হলেই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় শেষ হয়ে যায় না।’

প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, ‘নেত্র নিউজ যে তথ্যগুলো সামনে এনেছে, তা অনেক বাংলাদেশি আগে থেকেই আশঙ্কা করলেও এতদিন তা গুরুত্ব পায়নি। বিদেশে শেখ হাসিনা নিজেকে সমঝোতা ও ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরলেও, তোষামোদকারী ভারতীয় গণমাধ্যমের সহায়তায় তিনি দেশের অভ্যন্তরে প্রতিশোধ, অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড ও গেরিলা সহিংসতার উসকানি দিচ্ছিলেন।’

শফিকুল আলমের মতে, শেখ হাসিনা ইংরেজিতে কথা বলার সময় সমঝোতার বার্তা দিলেও বাংলায় অনুসারীদের ‘চোখের বদলে চোখ’ নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। প্রেস সচিব লিখেন, ‘প্রতিশোধ হিসেবে তিনি সমর্থকদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিতে বলতেন, সশস্ত্র হামলার উসকানি দিতেন এবং আদালতের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে উপহাস করতেন। এগুলো কেবল অভিযোগ নয়, বরং তাঁর নিজের বলা কথা, যা অসংখ্য কল রেকর্ডে সংরক্ষিত আছে এবং বিশেষজ্ঞরা ফরেনসিক পর্যালোচনায় তা যাচাই করেছেন।’

শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রভাব সম্পর্কে তিনি আরও লিখেছেন, ‘তাঁর এসব নির্দেশনার পরিণতি ছিল তাৎক্ষণিক ও প্রাণঘাতী। কল রেকর্ডগুলো ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাংলাদেশে অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলা ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে। এটি নিছক কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, বরং সরাসরি নির্দেশনা ছিল—যার ফলে বহু মানুষের প্রাণ গেছে।’

বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রেস সচিবের বক্তব্য, ‘যে ব্যক্তি সরাসরি সহিংসতা উসকে দেয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের ডাক দেয়, তাঁকে বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া যেতে পারে না। একজনকে আশ্রয় দিয়ে আবার শান্তি ও স্থিতিশীলতার বুলি আওড়ানোকে নিরপেক্ষতা বলা চলে না। শেখ হাসিনা কোনো সাধারণ নির্বাসিত ব্যক্তি নন, তিনি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী। সীমান্তের কারণে বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে দেশের ভেতর ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করা।’

পোস্টের শেষাংশে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আইনের শাসন রক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের সম্মান জানাতে তাঁকে অবশ্যই প্রত্যর্পণ করতে হবে। এটি স্পষ্ট করা জরুরি যে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করে নির্বাসনে গেলেই অপরাধের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় না।’

ভিওডি বাংলা/ এমএম/এমপি

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সুরভীর খোঁজ নিয়েছি, দ্রুত প্রতিকার পাবে
আসিফ নজরুল সুরভীর খোঁজ নিয়েছি, দ্রুত প্রতিকার পাবে
গোলামীর দিন শেষ- আসিফ নজরুল
গোলামীর দিন শেষ- আসিফ নজরুল
এনসিপি ছাড়লেন নীলিমা দোলা
এনসিপি ছাড়লেন নীলিমা দোলা