• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিক্ষোভের মুখে অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি ইরান প্রেসিডেন্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৯ পি.এম.
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংগৃহীত ছবি

টানা দুই সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে বড় ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দেশের দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান হলেও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপে থাকা জনগণের ওপর হঠাৎ মুদ্রার পতনের প্রভাবে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হলেও পরবর্তীতে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধান করা। তবে আরও বড় দায়িত্ব হলো—কিছু দাঙ্গাবাজ যেন পুরো সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।’

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনগণকে তথাকথিত ‘দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২–২৩ সালে মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর যে আন্দোলন হয়েছিল, তার পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে।

আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও বিদেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহিংস গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের কারণে জনগণের ক্ষোভকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করেছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সংসদে বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক দাবিকে স্বীকৃতি দিলেও সশস্ত্র ও সহিংস বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, দেশজুড়ে ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ এবং ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।

ভিওডি বাংলা/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের
বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের
ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও জনসাধারণকে রক্ষার অঙ্গীকার সেনাবাহিনীর
ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও জনসাধারণকে রক্ষার অঙ্গীকার সেনাবাহিনীর
রাশিয়া-চীন ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ড দখল প্রয়োজন: ট্রাম্প
রাশিয়া-চীন ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ড দখল প্রয়োজন: ট্রাম্প