• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইফতেখারুজ্জামান

উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ প্রভাবশালী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০০ পি.এম.
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ছবি-সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি প্রভাবশালী অংশই বেশি কর্তৃত্বশীল ভূমিকা রাখছে-এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তার ভাষায়, কোন নথিতে স্বাক্ষর হবে বা কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, এসব বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ নেই; বরং সিদ্ধান্তের লাগাম থাকে প্রশাসনের ভেতরের কিছু ক্ষমতাবান ব্যক্তির হাতে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়ন: সংস্কারের পথে প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে টিআইবি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রণীত অধ্যাদেশগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার সংস্কারপন্থী অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। বরং আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশসহ বিভিন্ন প্রতিরোধক শক্তির চাপের মুখে সরকারকে একাধিকবার আপস করতে হয়েছে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সরকার কেন এমন অবস্থানে যাচ্ছে- এ প্রশ্নের উত্তরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এর নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তাঁর কাছে নেই। তবে দীর্ঘ সময় সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তিনি লক্ষ্য করেছেন, কোন সিদ্ধান্তে কোন উপাদান থাকবে কিংবা বাদ যাবে, তা নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসনের প্রভাবশালী মহল। এতে কেবল গোষ্ঠীগত স্বার্থ নয়, রাজনৈতিক বিবেচনাও প্রতিফলিত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া বিভিন্ন অধ্যাদেশের ইতিবাচক ও সীমাবদ্ধতার দিকগুলো তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অংশীজনদের কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়াই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও খসড়া অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কয়েকজন অংশীজন মতামত দেওয়ার সুযোগ পেলেও, পরবর্তীতে তাদের সুপারিশ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো অংশীজনের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোতে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে আমলাতন্ত্র ও ক্ষমতাসীনদের একক ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ব বজায় রাখার প্রবণতাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশিত মাত্রার স্বচ্ছতা এবং স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারেনি।

ভিওডি বাংলা/ এমএম

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
২৫ প্রবাসী বাংলাদেশিকে ক্ষমা করেছে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি
২৫ প্রবাসী বাংলাদেশিকে ক্ষমা করেছে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি
হলফনামায় উল্লেখ নেই সম্পদের মালিককে শাসক হিসেবে চাই না
দুদক চেয়ারম্যান হলফনামায় উল্লেখ নেই সম্পদের মালিককে শাসক হিসেবে চাই না
আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫৮ জন
আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫৮ জন