রবিউল আলম
রাজনীতি হবে জনগণের সেবায়, আধিপত্যের নয়

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন ছাড়া দেশের সংকট কাটবে না। জনগণ হবে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক এবং জনপ্রতিনিধিরা হবেন জনগণের সেবক—এই দর্শন বাস্তবায়ন করতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর নিউমার্কেটে লতিফ সরণি এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিএনপি'র চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রবিউল বলেন, গত ১৭ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোট ছিল না বলে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের দরকার পড়েনি। তাই জনগণের সমস্যা কেউ শুনেনি। এই রাজনীতিই আমরা বদলাতে চাই।
তিনি জানান, এর আগে যারা এমপি ছিলেন তারা এই এলাকায় থাকেননি, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ ভাগ করেননি। ফলে ভোটের পর নাগরিকদের অভিযোগ তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি।আমি এই এলাকার মানুষ। এখানকার জলাবদ্ধতা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অভাব, ব্যবসায়ীদের সংকট সবই আমি নিজে ভোগ করেছি।
তিনি জানান, হাজারীবাগ ও বিজিবি এলাকার নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে আগের পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন একমাত্র হাতিরঝিলের দিক দিয়েই পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে, যা বিদ্যমান কাঠামো দিয়ে সম্ভব নয়।ওয়াসা এ বিষয়ে একটি প্রকল্প নিয়েছে, কিন্তু এখনো সেটি অনুমোদন ও বরাদ্দ পায়নি। আমি নির্বাচিত হলে দ্রুত সেই প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে কাজ শুরু করব।
বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন রবিউল। তিনি বলেন, “আমার দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি ভয় দেখায়, টাকা চায় বা বাহিনী তৈরি করে তাকে আমি প্রশ্রয় দেব না।”
নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা শুধু আমাকে জানাবেন। আজ জানালে আজই ব্যবস্থা হবে, কাল জানালে কালই হবে। ভয় পাবেন না।”
ফুটপাত দখল ও যানজট প্রসঙ্গে শেখ রবিউল বলেন, রাজধানীকে অচল করে রাখা যাবে না। তবে দরিদ্র মানুষের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে একটি পরিকল্পিত কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে সীমিত সংখ্যক দোকান রাখার প্রস্তাব দেন তিনি। ৩০০ দোকানের জায়গায় হয়তো ১৫–২০টি শৃঙ্খলাবদ্ধ দোকান রাখা যেতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই জনজীবন ও মূল ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না।
শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, “আমরা এমন রাজনীতি চাই যেখানে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না। জনগণ বলবে, প্রতিনিধি শুনবে এবং সমাধান করবে এটাই নতুন রাজনীতি।”
তিনি ঢাকা-১০ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।
ভিওডি বাংলা/ আরিফ





