জুলাই ঐক্য
১৪ দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে স্মারকলিপি

জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল ও এনডিএফ জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বেলা সাড়ে ১২টায় আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের নিচে জড়ো হতে থাকে জুলাই ঐক্যের নেতাকর্মীরা। এরপর তারা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে রওনা হন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কমিশনের সামনে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়। ইসলামি ফাউন্ডেশনের সামনে জুলাই ঐক্যের মিছিলটি এলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটকে দেয়। এরপর পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল কমিশন ভবনে এসে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০-এর অধিক ছাত্রজনতাকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে যে গণহত্যা চালিয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সরকার। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ যে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছিল তার আকাঙ্খা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো বিচারের জন্য রাস্তায়। কিন্তু আমরা দেখছি, এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডামি প্রার্থী ও জাতীয় পার্টিসহ এনডিএফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। এই জিএম কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ কায়েমে সহযোগিতা করা হয়। গত ১৬ বছর জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের সহযোগীরা বাংলাদেশে যত গুম, খুন, গণহত্যা ঘটিয়েছে, প্রকাশ্যে তার পক্ষে সহযোগিতা করেছে ১৪ দল। ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশ বিরোধী সব ধরনের কাজে লিপ্ত ছিল ১৪ দল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী জোট 'জুলাই ঐক্য'র দাবি অবিলম্বে গণহত্যাকারীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রশাসনের মধ্যে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা অবস্থান করছে। যারা ২০১৮ সালের রাতের ভোটের কারিগর, ২০২৪ সালের ডামি নাটকীয় নির্বাচনের অংশ, তাদেরই একটি অংশ ২০২৬ সালের নির্বাচনের দায়িত্বে। জুলাই ঐক্য মনে করে, এই প্রশাসন দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাঠ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যেসব ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে গুলি চালানো হয়, সেসব ম্যাজিস্ট্রেটরা এখন বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে। জুলাই ঐক্য মনে করে, যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে তাদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর মাধ্যমে কোনো একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে চায় রাষ্ট্র। এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে সব রাজনৈতিক দলের যেন নির্বাচন কমিশনের ওপর বিশ্বাস থাকে সেই আস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি। ২০০৫ সালে বিপুল সংখ্যক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল। পরে তাদের অনেকেই চাকরিচ্যুত হয়েছিল অযোগ্যতার কারণে। সেই কর্মকর্তাদের অনেকে আবার ফিরে এসেছে। তাদের অনেকেই মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বে আছে। সে সময় যেসব কর্মকর্তারা নিয়োগ পেয়েছিলেন তারাই সারা দেশের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় আমরা দেখেছি জেলা প্রশাসকদের ওপর এক কর্মকর্তা ছড়ি ঘুরিয়েছে, যে কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বিনা কারণে বাতিল হয়েছে। পরে তাদের অনেকেই আবার প্রার্থিতা ফিরেও পেয়েছে। সেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের নিরাপত্তায় বডি-ওয়র্ন ক্যামেরা না থাকলে নির্বাচনের দিন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। তফসিল ঘোষণার পর একের পর এক লাশ রাস্তায় পড়ছে। শরিফ ওসমান হাদীর মতো প্রার্থীকে খুন করা হয়েছে। খুনিকে গ্রেপ্তারে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার দৃশ্যমান কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র (দেশি অস্ত্রসহ) উদ্ধারে নির্বাচন কমিশনকে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে উপর্যুক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমরা আশঙ্কা করছি বিভিন্ন স্থানে ফ্যাসিবাদের সহযোগি ও গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে সাধারণ ছাত্রজনতা এবং শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা। এক্ষেত্রে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে। তাই উল্লিখিত বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে জুলাই ঐক্যের দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
ভিওডি বাংলা/ এমএম






