যশোর-২ আসন
অভিযোগের বেড়াজালে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর ভাগ্য

সারাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইলেও যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে হঠাৎ থমকে গেছে নির্বাচনী পরিবেশ। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর আইনি লড়াইয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল বিভাগে ঝুলে আছে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য। ফলে এই দুই দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
গত ১ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করেন। ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) জটিলতায় জামায়াত মনোনীত ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীসহ বিএনপির মোহাম্মদ ইসহকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। সে সময় বিএনপির সাবিরা সুলতানাসহ ৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ১১ জানুয়ারির আপিল শুনানিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আইনি প্রক্রিয়ায় তার প্রার্থিতা ফিরে পান।
জামায়াত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ব্যাংক ঋণের জটিলতা আপিল শুনানিতে কাটিয়ে উঠলেও নতুন করে বিপাকে পড়েছেন দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে। বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ আনলে ইসি তা আমলে নেয়। আগামী ১৫ জানুয়ারি এই বিষয়ে আপিল শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ডা. ফরিদ জানান, তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট সারেন্ডার করে এবং নাগরিকত্ব বাতিল করেই দেশে ফিরেছেন এবং প্রয়োজনীয় সব নথি জমা দিয়েছেন।
এদিকে বৈধ ঘোষিত বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে পৃথক দুটি আবেদন জমা পড়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম তথ্য গোপনের অভিযোগে এবং ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। কমিশন সূত্র জানায়, তথ্য গোপনের অভিযোগে ১৬ জানুয়ারি এবং ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগে ১৭ জানুয়ারি আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির প্রার্থীর ভাগ্য এখন আপিল বিভাগের হাতে। আগামী ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারির শুনানির পরই নিশ্চিত হবে যশোর-২ আসনে ধানের শীষ ও জামায়াত প্রার্থীর লড়াইয়ের চূড়ান্ত চিত্র।
ভিওডি বাংলা/ জুবায়ের হোসেন/ আ






