বহিষ্কারেও মাঠ ছাড়তে নারাজ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগশূন্য মাঠে নির্ভার থাকা বিএনপিকে সামাল দিতে হচ্ছে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হতে চললেও এখনো ৬০-এর অধিক আসনে শতাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্রের ব্যানারে নির্বাচনের মাঠে আছেন। শুধু তাই নয়, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ছেড়ে দেয়া ১৭টি আসনের মধ্যে চারটি আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের অসংখ্য নেতা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বহিষ্কার ও পদত্যাগের পরও প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন তারা। অন্যদিকে বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনো খুব একটা সাড়া মেলেনি প্রার্থীদের থেকে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে ময়মনসিংহ- প্রায় সব বিভাগেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। এমন অবস্থায় দলটির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নির্বাচনি কৌশল নিয়ে ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে বিরত না রাখা গেলে নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক আসনে একজন প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। দলের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র যারা আছেন তাদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। দলের নির্দেশনা না মানলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।
ইতোমধ্যে দলের সিদ্ধান্ত না মানায় ১০ নেতাকে বিএনপি বহিষ্কার করেছে। আর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে ছয়জন নির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
তবে এখন পর্যন্ত একাধিক নেতাকে ডেকে তারেক রহমান কথা বলেছেন। অনেকে আশ্বাসও দিয়েছেন। বিএনপির হাইকমান্ডের প্রত্যাশা, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি বিএনপি সব জায়গায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারবে।
গত রোববার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা-৮ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি, জমাও দিয়েছি। আমি নির্বাচন করবো। এলাকার জনগণ আমার পাশে আছে। আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, উনার কাছে দোয়া চেয়েছি, উনি দোয়া করে দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হবো।’
এদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দল বহিষ্কার করায় এখন তাকেও দলের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার বলার সুযোগ নেই। তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘বড় দল হিসেবে বিএনপি থেকে অনেকেই নির্বাচন করতে চান। কিন্তু দলের বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগ স্বীকারও করতে হবে। একক প্রার্থীর বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সবাই একজোট হয়ে মাঠে নামে দলের প্রার্থীর পক্ষে। অন্যথায় দল বসে থাকবে না। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে।’
ভিওডি বাংলা/ এমএম






