• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ট্রাম্পের হুমকির পর ঘোষণা

বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার করবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৭ পি.এম.
বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার করবে ইরান। সংগৃহীত ছবি

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পরপরই এই ঘোষণা এলো।

বুধবার ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, বিক্ষোভসংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তারা কাজ করছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এই বিক্ষোভকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসাইন মোহসেনি এজেয়ি একটি কারাগার পরিদর্শনের সময় বলেন,
“যদি কেউ হত্যা, শিরশ্ছেদ বা অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকে, তবে আমাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এসব মামলার বিচার প্রকাশ্য আদালতে হওয়া উচিত।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে বসে থাকবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“তারা যদি এমন কিছু করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

এ সময় ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “সাহায্য আসছে।”

তেহরান এই হুঁশিয়ারিকে সামরিক হস্তক্ষেপের একটি ‘অজুহাত’ হিসেবে দেখছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটনের এমন পরিকল্পনা আগেও ব্যর্থ হয়েছে এবং এবারও হবে। তাদের অভিযোগ, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ৮ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে ইরান সরকার। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশটিতে টানা ১৩২ ঘণ্টা ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এর মধ্যেই এএফপি নিশ্চিত করেছে, তেহরানের দক্ষিণে কারিজাক মর্গে সারিবদ্ধ লাশের ভিডিও পাওয়া গেছে।

নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৭৩৪ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করা গেছে, যার মধ্যে ৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে প্রকৃত সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। অন্যদিকে ইরান সরকার দাবি করেছে, বিক্ষোভে তাদের বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্যও নিহত হয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের দেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বের জন্য এই বিক্ষোভ একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ। তবে রেভল্যুশনারি গার্ডের মতো শক্তিশালী বাহিনীর উপস্থিতির কারণে সরকারের পতন ঘটবে কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ভিওডি বাংলা/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে ইরান
আল জাজিরা এক্সপ্লেইনার যত সংকটের মুখোমুখি হয়েছে ইরান
২০২৫ সালে ১ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছেন ট্রাম্প
২০২৫ সালে ১ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছেন ট্রাম্প
ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৬৪৫, গ্রেপ্তার ১০ হাজারের বেশি
ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৬৪৫, গ্রেপ্তার ১০ হাজারের বেশি