• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ভোগান্তির নাম জন্ম নিবন্ধন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক    ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হলেও এই অধিকার আদায় করতে গিয়ে যেন ভোগান্তির শেষ নেই। ডিজিটাল করা হলেও মাঠপর্যায়ে জন্ম নিবন্ধন সেবা এখনো এক প্রকার হয়রানির নাম। কোথাও দালাল, কোথাও অপ্রয়োজনীয় কাগজের ফাঁদ, আবার কোথাও অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফাইল আটকে যায়।

সরজমিনে দেখা যায়, কখনো প্রয়োজনীয় আবার কখনো ভুয়া কাগজপত্রে হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন। সিটি করপোরেশন ও দালালদের যোগসাজশে উভয় ক্ষেত্রেই লাগছে অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৩-এ জন্ম নিবন্ধন সেবার তথ্য জানতে চাইলে অফিস সহকারী জামাল নাস্তার রুমে নিয়ে যান। তিন দিনে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দেয়ার আশ্বাসে তিনি মুঠোফোনে পরিচয় করিয়ে দেন মিথুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে।
 
সরাসরি মিথুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা ছাড়াই ঢাকা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব। বিনিময়ে দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। তবে মিথুন নিজেকে সিটি করপোরেশনের লোক দাবি করলেও অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি আসলে দালাল। করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের যোগসাজশে তিনি অবৈধ উপায়ে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দেন।
 
এমন চিত্র শুধু অঞ্চল-৩-এ নয়, উত্তর ও দক্ষিণসহ সারাদেশে দেখা যায়। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের নাগরিকরা নানা অভিযোগ জানিয়েছেন।

সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, সার্ভার নাকি থাকে না, আবার অনেকে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেয়ার পরও সার্ভার জটিলতাসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হয় এবং বাসিন্দারা হ্যারাসমেন্টের শিকার হন। তবে টাকা দিলে সব হয়ে যায় দ্রুত। শুধু দুই-চারটি অভিযান চালিয়ে লাভ হবে না, কারণ সিস্টেমটাতেই গোলমাল রয়েছে।
 
এছাড়া নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা, মুন্সিগঞ্জ, গাইবান্ধাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকেও সেবাগ্রহীতারা জন্ম নিবন্ধনে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, অনেক সময় অফিসের ভুলের কারণে নামের বানান ঠিক করতে হলেও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গিয়ে অভিভাবকত্ব প্রমাণ করতে হয়।
 
সরকার এই সেবাকে ডিজিটাল করেছে হয়রানি কমানোর জন্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া যেমন জটিল, তেমনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও সিটি করপোরেশন অফিসে এসে নতুন বিড়ম্বনা শুরু হয়।
 
ফাইল জমা দিতে গিয়ে অনেক সময় চাওয়া হয় অপ্রয়োজনীয় ও নিয়মবহির্ভূত কাগজপত্র। দিতে না পারলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। বাধ্য হয়ে কিছু মানুষ দালালের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ আছে, এসব দালালের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একাংশের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে সরকারি নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
 
উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে দফতরে নেই। যত বেশি হিউম্যান ইন্টার‍্যাকশন কমানো যাবে, তত ঝামেলা কমবে।
 
জন্ম নিবন্ধন না থাকলে শিক্ষা, চিকিৎসা, পাসপোর্টসহ প্রায় সব নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ভোগান্তি এড়াতে অনেকে বাধ্য হয়ে অবৈধ উপায় বেছে নেন। তবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মনিটরিং নিশ্চিত না হলে এটি আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভিওডি বাংলা/ এমএম

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কী ভাবছে বিএনপি-জামায়াত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন কী ভাবছে বিএনপি-জামায়াত
ক্রিকেট ও মুস্তাফিজ
ক্রিকেট ও মুস্তাফিজ
বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান
কাউন্সিল নাকি রেজ্যুলেশন বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান