রাজশাহী
নারদ নদী খননেও উপকার হচ্ছে না কৃষকদের

রাজশাহী পুঠিয়ায় উপজেলায় নারদ নদী পুনঃখনন করা হয়েছে। কিন্তু বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ প্রকল্পটি কৃষকদের চাষাবাদ কাজে উপকারে আসছে না। ববং নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। যে উদ্দেশ্যে নদীটি খনন করা হয়ে ছিল, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে করে খরা মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
পুঠিয়া বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ ইং অর্থ বছরে বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষণ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নারদ নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়। পদ্মানদীর চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর বালুঘাট থেকে পুঠিয়া উপজেলার মধ্যে দিয়ে মুসাখাঁ নদী পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার নারদ নদী পুনঃ খনন করা হয়।
এতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ব্যয় করেছেন, ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অবৈধ দখলমুক্ত ও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নদীটি পুনঃখনন হওয়ায়। এ অঞ্চলের এক হাজার ৬শ’৫০ হেক্টোর কৃষি জমি সেচের আওতায় আনা হয়ে ছিল। এছাড়া দীর্ঘদিন যাবত ধরে বর্ষা মৌসুমে নিন্মাঞ্চলের জমিগুলোতে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে সহায়ক হিসেবে এই প্রকল্পটি কাজ করার কথা রয়েছিল। খননকৃত নারদ নদী থেকে পানি তুলে সেচ কাজে ব্যবহারে করার জন্য ইতিমধ্যে ১৩টি স্থানে সোলার প্যানেল ভিত্তিক এলএলপি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
কিন্তু চারঘাট-সরদা ট্রাফিক মোডের নিকট একটি কালভাট সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে না পারায়। পদ্মা নদী হতে পানি এনে খননকৃত নারদ নদীতে রাখতে হবে। কিন্তু পদ্মা নদীর পানি এনে রাখা হচ্ছে না। আবার নারদ নদীতে পানি না থাকায় নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার শুরু করেছে। নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদী খনন করা আগে যেসব ব্যক্তিরা নদী দখল করে রেখে ছিলেন তারাই বর্তমানে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার অভিযোগ উঠেছে।
পুঠিয়া কান্দ্রা খলিফাপাড়া গ্রামের আহাম্মদ আলি খলিফা বলেন, বর্তমানে নদীর অনেক স্থানে পানি শুকিয়ে গেছে। খলিফাপাড়ায় যে স্থানে সোলার প্যানেল দিয়ে এলএলপি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে পানি নেই। এতে করে এই বিলের প্রায় ১শত হেক্টোর জমির বিভিন্ন রকম ফসল ফলানো যাচ্ছে না। হঠাৎ করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খননকৃত সেচ প্রকল্প হতে পানি না পাওয়ার জন্য কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খরা মৌসুমে বেশি পানি না দিলে বোরো ধানের আবাদ করা যায় না।
কান্দ্রা গ্রামের আইয়ুব আলি মাস্টার বলেন, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এলএলপি নলকূপের দ্বারায় বর্ষাকালে নদী হতে পানি উঠানো সহজ। যে নদী হতে কৃষকরা পানি উঠিয়ে জমিতে সেই নদীতেই পানি নেই। এখন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উচিত হবে, নদীর যে স্থানগুলিতে পানি নেই। সেসব স্থানগুলিতে গর্ভীর নলকূপ স্থাপন করে জরুরিভাবে কৃষকদের পানির ব্যবস্থা করা।
তা না হলে, এ অঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে আসছে। তারপর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নদীর ওপর সড়কে থাকা কালভাটগুলে পুন:নির্মাণ করেননি। এতে করে নদীর কোনো পানি আছে। আবার কোনো স্থানে পানি নেই। যার জন্য, নদী খননকৃত দুই পাড়ের মাটি দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
জেকের মোড়ের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি খরা মৌসুমে শত শত হেক্টোর জমির ফসল সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে পুঠিয়া বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী হানিফ শিকদার বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকদের কৃষি চাষাবাদ কাজে উপকারে আসছে না। এটা ঠিক না। যে ব্যাপক উদ্দেশ্যের জন্য। সেচ প্রকল্পটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হাতে নিয়ে ছিল। তা পুরোপুরি উদ্দেশ্য হাসিল হয় নাই।
ভিওডি বাংলা/ মোঃ রমজান আলী/ আ






