• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট ভেঙে গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৫ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেছে। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার জোটে থাকবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। 

গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের বিভিন্ন শরিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমপক্ষে ৮০টি আসন না দেওয়া হলে তাদের পক্ষে জোটে থাকা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি শরিকরা আলাদা বৈঠক করেন। খেলাফত মজলিসের একাংশের আমীর মাওলানা মামুনুল হক চরমোনাই পীরের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করেন এবং আসন বন্টন নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। গভীর রাতে জামায়াতের এক নেতাকে মাওলানা মামুনুল হক পুরো পরিস্থিতি জানান।

জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চরমোনাই পীরের দল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে জোটে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চরমোনাইয়ের দল ছাড়া বাকি সব দল জোটে থাকছে। অর্থাৎ, ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন এবং এরপর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। খেলাফত মজলিসের একজন নেতা জানান, বাকি শরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। নতুন কিছু আসনে বিন্যাস হতে পারে, তবে এতে সমস্যা হবে না।

জোট ভাঙার পেছনের মূল কারণ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) যোগদানের পর থেকে আসন বিতরণের বিষয়ে চাপ বৃদ্ধি হওয়া। দলটি দাবি করে, ১৪৩টি আসনে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো সমর্থন রয়েছে। তারা এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসন দাবি করেছে।

শুরুতে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০ আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল, পরে তা ৪৫তে উন্নীত করা হয়। এছাড়া ৬-৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ৮০ আসনের জন্য অনড় থাকে। অন্য শরিকরা চেষ্টা করেও তাদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়। জামায়াতও ৮০ আসন দিতে পারেনি, কারণ এতে সম্ভাবনাময় আসনগুলো হারানো ছাড়াও অন্য দলগুলো আরও বেশি আসনের দাবি করতে পারত।

মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও সফল হয়নি। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা এসব আসনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আলাদা নির্বাচনে অংশ নেবেন।

কয়েক দিন ধরেই জোট ভাঙার খবর ছড়াচ্ছিল। বুধবার বিকালে জামায়াতের প্রেস কনফারেন্স ডাকলেও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় চরমোনাই পীর প্রেস কনফারেন্সে যোগ দিতে পারেননি। ফলে এটি স্থগিত হয়ে যায়। রাতেও সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও সফল হয়নি। আজ সকালে শেষ পর্যন্ত জোট ভাঙার খবর নিশ্চিত হয়।

জোটের বাকি শরিকরা এখনও একত্রিত থাকলেও আসন বন্টন নতুনভাবে বিন্যাস করতে হতে পারে। এটি নির্বাচনের ফলাফলের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী আন্দোলনের পদক্ষেপ নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতিবেগ যোগ করেছে এবং আসন বন্টনের প্রভাব শীর্ষ দলের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।

এবার ১০ দলীয় জোট হিসেবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচন চালাবে। ইসলামী আন্দোলন আলাদা প্রার্থী তালিকা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা, এ কারণে কিছু নির্বাচনী এলাকায় ভোট বিভাজন ঘটতে পারে। তবে জোটের অন্যান্য শরিকরা একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জোট ভাঙার প্রভাব দেশের ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী কৌশল, আসন বন্টন এবং ভোটের ফলাফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে টানাপোড়েন পরবর্তী নির্বাচনে মুসলিম ভোট ব্যাংককে বিভক্ত করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন যে ৮০ আসনের জন্য অনড় ছিল, তা তাদের শক্তি ও ভোট ব্যাংকের গুরুত্বের প্রতিফলন। অন্যদিকে, জামায়াত ও বাকি শরিকরা নতুন পরিস্থিতিতে কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করবে।

এ অবস্থায় চলতি বছরের নির্বাচনের আগে ইসলামি জোটের এই ভাঙন দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন চ্যালেঞ্জ ও দিকনির্দেশনা সৃষ্টি করেছে। ভোটারদের মনোভাব এবং নির্বাচনী ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এবি পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন
এবি পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন
নারায়ণগঞ্জের ৩ উপজেলায় পথসভা করবেন তারেক রহমান
নারায়ণগঞ্জের ৩ উপজেলায় পথসভা করবেন তারেক রহমান
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া শান্তকে তারেক রহমানের উপহার
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া শান্তকে তারেক রহমানের উপহার